রাজ্যের বিএড কলেজগুলিতে পড়ল বড় ধাক্কা। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণের অযোগ্য কলেজগুলির একটি তালিকা প্রকাশ করল বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তালিকায় থাকা কলেজগুলি নির্ধারিত সরকারি এবং প্রশাসনিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার জেরে তাদের অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণ বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকায় ২০৫টি বিএড কলেজকে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্বীকৃতি নবীকরণ করতে পারবে না এই বিএড কলেজগুলি। ফলে পড়ুয়ারা ভর্তি হতে পারবে না।
বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, চিহ্নিত কলেজগুলি ২০২৬-২০২৮ সেশনে বিএড কোর্সে কোনও নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি নিতে পারবে না। তবে কর্তৃপক্ষ বিএড কলেজগুলিকে দ্রুত পরিকাঠামোগত এবং শিক্ষক সংক্রান্ত ঘাটতি মিটিয়ে ফেলার সুযোগ দিয়েছে। যাতে তারা পরবর্তী ২০২৭-২০২৯ সেশনের ভর্তির জন্য নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারে। এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিকাশ ভবনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন শিক্ষাকে কোনওভাবেই পণ্য করতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার গুণমান বজায় রাখতে হবে। তাই উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষা দপ্তর যৌথভাবে বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ফার্মা কলেজগুলিতে কঠোর পরিদর্শন ড্রাইভ চালায়। প্রথম দফায় ১৫৬টি বিএড কলেজকে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি এমন ৪১৫টি বিএড কলেজকে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২১ দিনের শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৯টি কলেজ কোনও জবাব দেয়নি।’
বিএড কলেজগুলির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সি প্রত্যেক বছর কলেজগুলির পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং নিয়মবিধি খতিয়ে দেখার পরেই অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণ করে থাকে। দ্বিতীয় দফার পরিদর্শন হওয়ার পর ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ২৩৭টি বিএড কলেজে পড়ুয়া ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০৫টি কলেজ গুণমান পূরণ করতে পারেনি। আর সে কারণে সেখানে পড়ুয়া ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, ২৬৫টি আইটিআইয়ের মধ্যে ১৪টি, ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টি এবং ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে ১টিতে ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। তার ফলে অন্ধকারে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ।
তাছাড়া উচ্চশিক্ষামন্ত্রী অন্যান্য পেশাদারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নেওয়া কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের খতিয়ান পেশ করেন। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ২৬৫টি আইটিআইয়ের মধ্যে ১৪টিকে ডি-অ্যাফিলিয়েট করা হয়েছে, ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টিতে চলতি বছর ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে এবং ৭৪টি পলিটেকনিকের মধ্যে ১টি পলিটেকনিক কলেজে ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার গুণমান রক্ষা করতে এবং ডিগ্রি বিক্রির দোকান বন্ধ করতেই শিক্ষা দপ্তর এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
Leave a Comment