আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

তেলিয়ামুড়ায় অসহায় ছাত্র অনির্বাণ! — মায়ের মৃত্যুর পর চরম সংকটে এক কিশোরের জীবন এবং পরিবার!

By Mrinmoy Roy

Published on: March 7, 2026

Follow Us

---Advertisement---

তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ৭ মার্চ ২০২৬, শনিবার : জীবনের কঠিন বাস্তবতা কখন যে কার সামনে দাঁড়ায়, তা কেউই আগে থেকে বুঝতে পারে না। খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার নেতাজিনগর এলাকার এক কিশোর আজ সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। নাম তার অনির্বাণ দাস — বয়স মাত্র সতেরো, পড়াশোনা করছে একাদশ শ্রেণিতে। কিন্তু এই অল্প বয়সেই জীবনের এমন এক দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে, যা যে কোনো মানুষকেই আবেগাপ্লুত করে তুলবে।
শৈশবেই পিতাকে হারিয়েছিল অনির্বাণ। তারপর থেকে তার পৃথিবী ছিল কেবল তার মা এবং বৃদ্ধা দিদাকে ঘিরে। মায়ের কঠোর পরিশ্রম আর দিদার স্নেহে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছিল সে। বহু কষ্টের মাঝেও তার মা বিভিন্ন বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার স্বপ্নটুকু বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
কিন্তু ভাগ্য যেন বারবার নির্মম হয়ে উঠছে এই পরিবারটির প্রতি। কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে অনির্বাণ হারায় তার জীবনের শেষ ভরসা — তার মাকে। মুহূর্তের মধ্যেই যেন ভেঙে পড়ে ছোট্ট এই সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের মৃত্যুতে আজ দিশেহারা অনির্বাণ ও তার বৃদ্ধা দিদা।
মায়ের মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। এরই মধ্যে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আরেক কঠিন বাস্তবতা — মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য ন্যূনতম অর্থটুকুও তাদের হাতে নেই। কীভাবে মায়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন, তা নিয়েই গভীর অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
শুধু তাই নয়, তাদের বসতবাড়ির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। খোয়াই নদীর পাড়ঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত জরাজীর্ণ সেই ঘরটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সামনে আসছে বর্ষাকাল — সেই সময় কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে, তা ভেবেই আতঙ্কিত অনির্বাণ ও তার দিদা।
একদিকে মায়ের অকাল মৃত্যু, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ — এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেন অসহায়ভাবে লড়াই করছে একটি কিশোর। তবুও তার চোখে এখনও পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বেঁচে আছে।
এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী সংগঠন এবং সকল সহৃদয় মানুষের কাছে অসহায় এই পরিবারটির একটাই আবেদন— আমাদের পাশে দাঁড়ান।
কারণ একটি ছোট সহায়তাও হয়তো এই অসহায় কিশোরটির জীবনকে আবার নতুন করে বাঁচার শক্তি দিতে পারে। মানবতার হাত যদি এগিয়ে আসে, তবে হয়তো অন্ধকারের মাঝেও অনির্বাণ আবার আলো খুঁজে পাবে।

Mrinmoy Roy

Journalist

Leave a Comment