আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ‍্যে ইডি অনিল অম্বানীর ৫৮১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত!

By Suman Debnath

Published on: March 13, 2026

Follow Us

---Advertisement---

ইডি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোয়া, কেরল, কর্নাটক, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ এবং রাজস্থানে জমি-সহ ৩১টি স্থাবর সম্পত্তি অ্যাটাচ করা হয়েছে।

আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিযুক্ত শিল্পপতি তথা ‘রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী’ (এডিএজি)-র কর্ণধার অনিল অম্বানী এবং তাঁর সংস্থার ৫৮১ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি বৃহস্পতিবার বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডির তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ‍্যে ছড়িয়ে থাকা ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই নিয়ে এই মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ ১৬৩১০ কোটি টাকা।

ইডি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোয়া, কেরল, কর্নাটক, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ এবং রাজস্থানে জমি-সহ ৩১টি স্থাবর সম্পত্তি অ্যাটাচ করা হয়েছে বৃহস্পতিতে। ‘রিলায়্যান্স হোম ফাইন্যান্স লিমিটেড’ (আরএইচএফএল) এবং ‘রিলায়্যান্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স লিমিটেড’ (আরসিএফএল) মামলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওই সম্পত্তিগুলি যাতে হস্তান্তরিত না করা বা মালিকানা বদল করা না-যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে ইডি-র একটি সূত্র জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মাসে ইডি এই মামলায় অনিলের মুম্বইয়ের পালি হিলের বাড়ি অ্যাটাচ করেছিল। প্রায় ৩৭১৬ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৭তলার ওই বাড়িটি এখন তাদের হেফাজতে।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন’ (ফেমা) লঙ্ঘন মামলায় অনিল গোষ্ঠীর মালিকানাধীন রিলায়্যান্স পাওয়ার লিমিটেড (আর-পাওয়ার)-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। প্রসঙ্গত, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ রয়েছে রিলায়্যান্স এডিএজি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা এবং তার কর্ণধার অনিলের বিরুদ্ধে। এ জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সেই মামলায় নতুন করে অনিল ও তাঁর গোষ্ঠীকে গত জানুয়ারি মাসে নোটিস পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘এটাই শেষ সুযোগ বলেও’ স্পষ্ট করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি, এই অভিযোগের তদন্ত কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, ১০ দিনের মধ্যে সিবিআই, ইডি-কে সেই তথ্য জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের দুই তদন্তকারী সংস্থার জবাব শুনে উষ্মা প্রকাশ করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ বলেছিল, ‘‘তদন্তে কেন দেরি হচ্ছে! এমন বিলম্বের কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই।’’ ঘটনাচক্রে, তার পরেই অনিলের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে ইডি।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানিপর্বে অনিল হলফনামা জানিয়েছিলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যাবেন না তিনি। দুই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্তেও সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে হলফনামায় জানান প্রয়াত ধীরুভাই অম্বানীর পুত্র। সেই সঙ্গে আইনজীবী মারফত সুপ্রিম কোর্টে অনিল জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে (তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে) তিনি ভারতের বাইরে যাননি। এখনও ভারতের বাইরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা বা ইচ্ছা তাঁর নেই। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, কখনও বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে, ওই সফরের জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে আগাম অনুমতি নেবেন। প্রসঙ্গত, ৪০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার ঋণ প্রতারণার অভিযোগে অনিল এবং তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি এবং সিবিআই। তবে ওই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মা। আদালতের নজরদারিতে ওই তদন্ত চালানোর জন্য তিনি আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টে। গত নভেম্বরে এই মামলায় দিল্লি, নয়ডা, গাজ়িয়াবাদ, পুণে, মুম্বই, ঠাণে, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং অন্ধ্রপ্রদেশে অনিল এবং তাঁর সংস্থার বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তি অ্যাটাচ করেছিল ইডি।

Suman Debnath

Journalist

Leave a Comment