নলছড়, ৮ জুন: যুব সমাজকে নেশার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে সোমবার নলছড় বাজারে এক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে ডিওয়াইএফআই (DYFI) নলছড় অঞ্চল কমিটি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নলছড় বাজার এলাকায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে যুব সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম হলো বেকারত্ব এবং নেশার বিস্তার। কর্মসংস্থানের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে অনেক তরুণ-তরুণী নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং যুব সমাজকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নলছড় বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল এলাকা এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলিতে পোস্টারিং করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতে তথ্যভিত্তিক লিফলেট তুলে দেন DYFI কর্মীরা। লিফলেটের মাধ্যমে যুব সমাজের বর্তমান সমস্যা, নেশার ক্ষতিকর প্রভাব, কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিগুলি তুলে ধরা হয়।
DYFI নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুব সমাজের উপর। অথচ বর্তমান সময়ে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বিস্তার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন DYFI সোনামুড়া বিভাগীয় সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ সাহা, বিভাগীয় সভাপতি সুমন দে, বিভাগীয় সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্যা সুস্মিতা দাস, নলছর অঞ্চল সম্পাদক বিশ্বজিৎ শর্মা, বিভাগীয় কমিটির সদস্য তাপস দে, প্রাক্তন বিধায়ক তপন চন্দ্র দাস, প্রাক্তন যুব নেতা বিকাশ দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা দাবি করেন, যুব সমাজের সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আগামী দিনে সামাজিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
কর্মসূচিতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যুব কর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন। বাজারের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে তারা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
DYFI নেতৃত্ব জানিয়েছে, এটি শুধুমাত্র একটি দিনের কর্মসূচি নয়। আগামী দিনেও যুব সমাজের স্বার্থে, নেশার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন ও গণসংযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। সংগঠনের মতে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুস্থ, নিরাপদ এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
Leave a Comment