আগরতলা, ৮ জুন: রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার অব্যবস্থা, স্মার্ট মিটার নিয়ে জন অসন্তোষ, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগসহ একাধিক দাবিকে সামনে রেখে সোমবার আগরতলায় বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সদর জেলা কংগ্রেস কমিটি। কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন এবং বিভিন্ন দাবিতে সরব হন।
বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। একদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অন্যদিকে পরিষেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও জনবান্ধব করার জন্য সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজ্যে স্মার্ট মিটার চালুর পর থেকে বহু গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের মুখোমুখি হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বারবার অভিযোগ আসছে যে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থার তুলনায় স্মার্ট মিটারে বিদ্যুৎ খরচের হিসাব অনেক বেশি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দলটির নেতাদের বক্তব্য, স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা উচিত।
এছাড়াও বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাদের মতে, মূল্যবৃদ্ধির চাপে এমনিতেই সাধারণ মানুষ নাজেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং অন্যান্য খরচের চাপের মধ্যে বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অবিলম্বে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা তন্ময় চক্রবর্তী। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবা একটি অত্যাবশ্যকীয় জনসেবা। অথচ বর্তমানে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্মার্ট মিটার নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা না করে সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।
তন্ময় চক্রবর্তী আরও বলেন, বিদ্যুৎ দপ্তরের বিভিন্ন কাজে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ দপ্তরে যদি কোথাও দুর্নীতি বা অনিয়ম ঘটে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ পরিষেবা উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া দরকার। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তারা স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি প্রত্যাহার, বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কর্মসূচির শেষে কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজ্য সরকারের কাছে জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়। তাদের মতে, বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সরকারের উচিত মানুষের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা আরও একবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
Leave a Comment