আবহাওয়াপশ্চিমবঙ্গভারতচাকরিরাশিফলআইপিএলআধ্যাত্মিকটাকা পয়সাস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলমিউচুয়াল ফান্ডব্যবসাঅন্যান্যশেয়ার বাজারটিভি সিরিয়াল

আধুনিকতার চাপে বিলুপ্তির পথে মাটির খেলনা! তেলিয়ামুড়ার পালপাড়ায় সংকটে মৃৎশিল্প!

By Mrinmoy Roy

Published on: January 17, 2026

Follow Us

---Advertisement---

তেলিয়ামুড়া, মৃন্ময় রায়, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার :
এক সময় গ্রামবাংলার মেলা ও পূজা-পার্বণের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল মাটির তৈরি খেলনা। ঠুলি-মুচি, মাটির গাড়ি, পয়সা রাখার মাটির ব্যাংক কিংবা ছোট রান্নার হাঁড়ি-পাতিল—এসব নিয়েই কেটেছে বহু প্রজন্মের শৈশব। মাটির গন্ধে মিশে থাকা এই খেলনাগুলি শুধু শিশুদের আনন্দ দিত না, বহন করত আমাদের লোকজ সংস্কৃতির পরিচয়।
আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। তেলিয়ামুড়ার করিলং শিশু বিহার চৌমুনী এলাকার পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা জানাচ্ছেন, মাটির তৈরি খেলনার বাজার প্রায় নেই বললেই চলে। পূজা-পার্বণ এলে একসময় তাঁরা মেলায় বসে বিপুল পরিমাণ খেলনা তৈরি ও বিক্রি করতেন। এখন সেইসব জিনিস বানালেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হয় না।
শিল্পীদের বক্তব্য, প্লাস্টিকের তৈরি খেলনার বাড়বাড়ন্তই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। বাজারে সহজেই পাওয়া যায় রঙিন, টেকসই ও আকর্ষণীয় প্লাস্টিকের খেলনা, যা শিশুদের মন সহজেই কেড়ে নিচ্ছে। ফলে মাটির খেলনার প্রতি আগ্রহ দিন দিন কমছে।
পালপাড়ার মৃৎশিল্পী বাবুল পাল, যিনি প্রয়াত শিল্পী মন্টু রুদ্র পালের পুত্র, জানান—
“মাটির জিনিস তৈরি করতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে। মেলায় নিয়ে গেলে দাম একটু বাড়াতে হয়, কিন্তু তখন অনেকেই কিনতে চান না।”
বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা মাটির খেলনার সঙ্গে প্রায় পরিচিতই নয়। ব্যাটারি চালিত খেলনা, প্লাস্টিকের রান্নাবাটি কিংবা ডিজিটাল গেমের প্রতিই তাদের ঝোঁক বেশি। এর ফলস্বরূপ পালপাড়ার শিল্পীরা বাধ্য হয়ে শিশুদের খেলনা বানানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
বর্তমানে তাঁরা মূলত ঘট, পাতিল, শুটকি মটকা সহ কিছু দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করছেন, যেগুলোর বাজারে এখনও সামান্য চাহিদা রয়েছে। তবে তা দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্পী ইতিমধ্যেই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, কেউ কেউ দৈনিক হাজিরার শ্রমিক হিসেবেও কাজ করছেন।
শিল্পী বাবুল রুদ্রপাল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের জন্য মাটির তৈরি খেলনা হয়তো শুধুই গল্প হয়ে থাকবে।
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—আমাদের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প কি সত্যিই হারিয়ে যাওয়ার পথে? মাটির গন্ধ মাখা সেই শৈশবের দিনগুলো কি কেবল স্মৃতির পাতায়ই বন্দি থাকবে? এখনই যদি উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে একদিন হয়তো এই শিল্প চিরতরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Mrinmoy Roy

Journalist

Leave a Comment