বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকছে মানুষ। এবার সই জাল কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এনে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে সিআইডি। একই সঙ্গে দলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও সাক্ষী হিসেবে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, রবিবার ভবানী ভবনে সিআইডির সদর দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এর আগে বৃহস্পতিবার তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্তকারীরা সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। সেই কারণেই ফের তাঁকে ডাকা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সিআইডির এক আধিকারিক কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়ে সমন প্রদান করেন। তাঁকে রবিবার দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ানে কোনও অসঙ্গতি বা পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেলে কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
সিআইডির তদন্তে মূলত তিনটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান চলছে। প্রথমত, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য রেজোলিউশন ঠিক কবে গৃহীত হয়েছিল—৬ মে না ১৯ মে। দ্বিতীয়ত, বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস বুকের আসল খাতা বর্তমানে কোথায় রয়েছে। তৃতীয়ত, যাঁরা দাবি করছেন তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, তাঁদের হয়ে প্রকৃতপক্ষে কারা স্বাক্ষর করেছিলেন।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট উত্তর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় তলব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তিনি আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার একটি অংশ ইতিমধ্যেই অসহযোগিতার অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে বলে সূত্রের দাবি।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন নজর রবিবারের জিজ্ঞাসাবাদের দিকে। সই জাল কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Leave a Comment