বক্সনগর, সিপাহীজলা প্রতিনিধি: বক্সনগরের আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আজ সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের উপর এ ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বক্সনগরের আশাবাড়ি বিওপি এলাকার কাঁটাতারের বেড়ার ১৭৪ ও ১৭৫ নম্বর গেটের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অবৈধ সামগ্রী পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্তব্যরত জওয়ানরা কয়েকজনকে ধাওয়া করেন বলে জানা যায়।
পরবর্তী সময়ে হেফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। তাঁকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করানোর পর বক্সনগর-রহিমপুর সড়কে অবরোধের ঘটনা ঘটে।
সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ অবরোধস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনেই তিনজন বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রকাশ্যে আসা ভিডিও ফুটেজে জওয়ানদের মারধর, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের দৃশ্য সামনে আসে বলে দাবি করা হয়েছে। আহত জওয়ানদের সহায়তা করতে গিয়ে কয়েকজন সংবাদকর্মীও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন। তদন্তের স্বার্থে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএসএফ জওয়ানদের উপর এই হামলার ঘটনায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর বার্তার পর এখন তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।
Leave a Comment