---Advertisement---

দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে হার, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাই ডোবাল ভারতকে, হারের পর স্বীকারোক্তি অধিনায়ক শুভমনের

By Suman Debnath

July 17, 2026 9:50 AM

দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে হার, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাই ডোবাল ভারতকে, হারের পর স্বীকারোক্তি অধিনায়ক শুভমনের

---Advertisement---


কিছুতেই সারছে না ভারতীয় দলের রোগ। একটা সারছে তো আর একটা বাসা বাঁধছে।ফলে ইংল্যান্ডে একের পর এক ম্যাচ হারতে হচ্ছে টিম ইন্ডিয়া-কে। টানা চারটি টি-২০-তে হারার পর প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে জিতেছিল ভারত। কিন্তু সেই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে মুখ থুবরে পড়ল শুভমন গিলের দল।

বৃহস্পতিবার কার্ডিফে জয়ের রাস্তা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত হেরে ফিরতে হল ভারতকে। দ্বিতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে ১০৪/১ থেকে ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। পরে জো রুটের অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংসে চার উইকেটে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে ভারতের ব্যাটিং ধসের জন্য মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করলেন অধিনায়ক শুভমন গিল।

ম্যাচের পর গিল বলেন, ‘আমরা দুর্দান্ত শুরু করেছিলাম। কিন্তু মিডল অর্ডারে কয়েকটি উইকেট খুব দ্রুত হারিয়ে ফেলি। শেষের ব্যাটারদের কাছ থেকে তো আপনি সব সময় বড় রান আশা করতে পারেন না। ওরাই তো আমাদের সেরা ব্যাটার নয়। তাই আমাদের মাঝের সারির ব্যাটারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে’।

ভারত অধিনায়ক আরও মনে করেন, ১০৪/১ থেকে আরও অনেক বড় স্কোর করা সম্ভব ছিল। তাঁর কথায়, ‘ওই পরিস্থিতি থেকে আমাদের অন্তত ৩০০-৩১০ রান করা উচিত ছিল। আমরা নিজেদেরই সেই সুযোগ নষ্ট করেছি’।

প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও এ দিন দ্বিতীয় ওয়ান ডে-তে হাফ সেঞ্চুরি করেন বিরাট কোহলি। আর তাতেই শুরুর ধাক্কা সামলে নেয় ভারত। বৃহস্পতিবার কার্ডিফে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ১১১ রানেই তিন উইকেট পড়ে যায় ভারতের। সেই জায়গা থেকে দলকে টেনে তোলেন বিরাট এবং ৬৬ বলে ৬৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। কিন্তু তিনি ফিরে যেতেই ফের ইনিংসে ধস নামে।

আরও পড়ুন:  কলকাতা ডার্বির টিকিট বিক্রি শুরু আজ থেকেই, কোথায় ও কীভাবে পাবেন ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচের প্রবেশপত্র?

শুধু বিরাট নন, এ দিন দলকে ভরসা জোগান শ্রেয়স আইয়ারও। তিনিও এ দিন হাফ সেঞ্চুরি করে দলের স্কোরকে ভাল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই দু’জন ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দলকে তেমন ভাবে সাহায্য করতে পারেননি।

বিরাট আউট হওয়ার পর শ্রেয়স একদিক ধরে রাখলেও অন্য দিক থেকে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। শ্রেয়স পাঁচটি চার ও দুটি ছয় হাঁকিয়ে ৬৬ রান করে ফিরে যান। বিরাট আটটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৯৮-এর স্ট্রাইক রেটে ৬৫ রানের ইনিংস খেলার পর ৩২তম ওভারে জোফ্রা আর্চারের শর্ট বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।

বিরাট যখন ফিরে যান, তখন ভারতের স্কোর ১৭৮-৪। কিন্তু তিনি ফিরে যাওয়ার পরই মাত্র ১৫ রানের মধ্যে ভারতের ইনিংসে ধস নামান মিডিয়াম পেসার সাকিব মেহমুদ ও আর্চার। ১৭৮-৪ থেকে ভারত ১৯৩-৭-এ চলে আসে। শেষ দিকে তিনটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জশপ্রীত বুমরা এক ওভারে ১৮ রান করে দলকে ২৩২-৮-এ পৌঁছে দেন। না হলে হয়তো আরো কম রানে গুটিয়ে যেত ভারত।

আরও পড়ুন:  ‘এই যাত্রাটাই সবচেয়ে সুন্দর’— ফাইনালের আগে আবেগঘন পোস্ট মেসির, অবসর জল্পনায় তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব

শেষ সাত উইকেট মাত্র ৫৫ রানে হারায় ভারত। ইংল্যান্ডের পেসার জোফ্রা আর্চার এবং গাস অ্যাটকিনসন তিনটি করে উইকেট নেন।শুধু ব্যাটিং নয়, এ দিন ভারতীয় দলের কম্বিনেশনেও প্রভাব ফেলেছে চোট। অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর চোট পাওয়ায় ভারতের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয় বলে জানান গিল। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন চোট পাওয়ায় আমাদের একজন বোলার কমে গিয়েছিল।

তবুও আমি মনে করি বোলাররা নিজেদের কাজ যথেষ্ট ভালোভাবেই করেছে। কিন্তু আমরা ব্যাট হাতে প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারিনি’। ২৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও জো রুটের অভিজ্ঞ ইনিংসই ইংল্যান্ডকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দলকে চার উইকেটে জয় এনে দেন তিনি।

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় জো রুট ইংল্যান্ড সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোয় উচ্ছ্বসিত। প্রথম ম্যাচে হারের পর কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করে জয় তুলে নেওয়াকেই তিনি ভালো দলের পরিচয় বলে মনে করেন।

রুট বলেন, ‘ক্রিকেট এমনই। সিরিজ এখন ১-১, আর এবার লর্ডসে ফয়সালা হবে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে দলকে জেতানোই আসল ব্যাপার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয়টা তুলে নেওয়া’।

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এই উইকেটে ব্যাট করা খুবই কঠিন ছিল। ভারতের চাপ সামলাতে আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। অনেক সময় দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হয়, খুব একটা সুন্দর না খেলেও জয় ছিনিয়ে আনতে হয়’।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment