---Advertisement---

‘১৮৩টি প্রতীক থাকতে এনভেলপই কেন?’ শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতির

By Suman Debnath

September 24, 2026 1:40 PM

‘১৮৩টি প্রতীক থাকতে এনভেলপই কেন?’ শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতির

---Advertisement---


উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। আইএসএফের ‘এনভেলপ’ প্রতীক তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে বরাদ্দ করা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি।

শুনানিতে আদালতের প্রশ্ন, ‘১৮৩টি প্রতীক থাকতে একটি প্রতীকই কেন বেছে নেওয়া হল? মাত্র একটি প্রতীকই কি পাওয়া যাচ্ছিল?’ আদালতের বক্তব্য, কোনও প্রতীক মাত্র কয়েক মাস আগেই অন্য একটি রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে থাকলে এবং সামনে আরও বহু প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ থাকলে, বিতর্কিত প্রতীকটি এড়িয়ে যাওয়া যেত।

আদালত আরও জানতে চায়, কেন আগে শুনানি না করে প্রতীক বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল? আগের ব্যবহারকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া বা আপত্তি বিবেচনা করার সুযোগ কেন রাখা হল না, সেই প্রশ্নও ওঠে শুনানিতে।

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ আবেদনকারীদেরই দেওয়া হয়েছিল। তখন মামলাকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘তাঁরা প্রতীক বেছে নেননি, কমিশনই প্রতীক বরাদ্দ করেছে।’ এ প্রসঙ্গে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, কোনও প্রতীক নিয়ে আগেই বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হলে কমিশন কেন সেটি পুনর্বিবেচনা করল না? আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে হয়, সেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের মাথায় রাখা উচিত।

অন্যদিকে, তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁদের প্রতীক বেছে নিতে বলা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়াতেই ‘এনভেলপ’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্য কোনও দলের ওই প্রতীকের উপর ‘কোনও আইনি অধিকার নেই’ বলেও আদালতে সওয়াল করা হয়।

শুনানিতে আদালতের আরও কড়া প্রশ্ন, ‘কর্তৃপক্ষের কাজ কি মানুষকে বারবার আদালতে আসতে বাধ্য করা?’ আদালত মন্তব্য করে, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর এই ধরনের সিদ্ধান্তের জেরে রাজনৈতিক দলগুলিকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এর ফলে আদালতের উপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

আদালতের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি প্রশ্নই, যখন আরও ১৮৩টি প্রতীক বরাদ্দের সুযোগ ছিল, তখন আগে ব্যবহৃত এবং বিতর্কিত ‘এনভেলপ’ প্রতীকটিই কেন বেছে নেওয়া হল? শুনানির এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশ নেওয়ার জন্য সময় চান। এরপর শুনানি মুলতুবি করে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন: ২০০৭-এর মামলা, ভোটের মুখে ২০২৬-এ গ্রেপ্তার! হাইকোর্টে স্বস্তি মিলন প্রধানের

প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এখন রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুনানি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ আদালতে জানানো বাকি। পরবর্তী শুনানিতে কমিশনের অবস্থান এবং প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হয়েছিল তা  জানতে চেয়েছেন বিচারপতি রাও।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment