উইম্বলডন-এ টানা দ্বিতীয়বার পুরুষদের সিঙ্গলস খেতাব জয়ের পর ইতালির তারকা ইয়ানিক সিনার এম একজনের কাছ থেকে অভিনন্দন বার্তা পেলেন, যার কথা তিনি হয়তো ভাবতেও পারেননি। ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকর যে সিনারের এই সাফল্যে এত মুগ্ধ হয়েছেন, তার এই বার্তা না পেলে বোধহয় জানাই যেত না। একইসঙ্গে রানার-আপ আলেকজান্ডার জেভেরেভের লড়াকু পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছেন টেনিসভক্ত শচীন।
রবিবারের ফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর সিনার ৬-৭ (৭), ৭-৬ (২), ৬-৩, ৬-৪-এ জার্মান তারকা আলেকজান্ডার জেভেরেভকে হারিয়ে উইম্বলডন খেতাব ধরে রাখেন। এটি সিনারের কেরিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ২০২৬ মরশুমের প্রথম মেজর টাইটেল।
দীর্ঘ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শচীন লেখেন, ‘আজ @AlexZverev সত্যিই @janniksin-কে হারানোর জন্য নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে! ওর সার্ভ, কোর্টে চলাফেরা, শট নির্বাচন—সবই ছিল অসাধারণ।’
এর পর সিনারের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘কিন্তু সিনার দেখিয়ে দিল, উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হতে শুধু নিজের সেরা টেনিস খেললেই হয় না। কঠিন মুহূর্তগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে হয়, শান্ত থাকতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখতে হয়। সেই মানসিক দৃঢ়তাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
শেষে ইতালীয় তারকাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সচিন বলেন, ‘আরও একটি উইম্বলডন খেতাব জয়ের জন্য অভিনন্দন, ইয়ানিক সিনার!’
এই জয়ের ফলে সিনার উইম্বলডনের পুরুষদের সিঙ্গলসে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় দশ নম্বরে জায়গা পেলেন। পাশাপাশি জেভেরেভের বিরুদ্ধে তাঁর টানা জয়ের সংখ্যাও দাঁড়াল ১০।
ফ্রেঞ্চ ওপেনে হতাশাজনক বিদায়ের পর দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এ বছর নিজের ষষ্ঠ এটিপি খেতাবও জিতে নিলেন ইতালীয় তারকা। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে উঠেও পরপর দুটি মেজর জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল জেভেরেভের।
‘জীবনের সেরা পাঁচ দিনের অন্যতম’
এই সাফল্যের পর সিনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে না পারলেই যে সেটা ব্যর্থতা, আমি তা মনে করি না। এমন দিন জীবনে খুব, খুব কমই আসে। আমার জীবনে এখন পর্যন্ত এমন পাঁচটি দিন এসেছে। আমি পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের কথা বলছি। কিন্তু দিনের শেষে দেখলে, অসংখ্য দিনের মধ্যে এগুলো মাত্র পাঁচটি দিন।’
এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘তাই এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনটা ভীষণ কঠিন ছিল। আমি যদি হারতাম, তবুও দিনটা আমার কাছে দারুণই থাকত। কারণ গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলার সুযোগ খুবই বিরল, আর ভীষণ স্পেশ্যাল। তাই আমি কখনও কোনও কিছুই স্বাভাবিক বা নিশ্চিত বলে ধরে নিই না।’
গত মাসে ফরাসি ওপেনে সবচেয়ে হতাশাজনক হার মানতে হয় সিনারকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে তুলনামূলকভাবে অখ্যাত আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় হুয়ান ম্যানুয়েল সেরুন্ডোলোর বিরুদ্ধে দুই সেটে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি পঞ্চম সেটে ৫-১ ব্যবধানেও এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও ম্যাচ হাতছাড়া করেন ইতালীয় তারকা।
২৪ বছর বয়সি সিনার এর পর এবং উইম্বলডনের আগে আর কোনও টুর্নামেন্ট খেলেননি। তবে উইম্বলডনে প্রথম রাউন্ডে মিওমির কেচমানোভিচকে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে হারানোর পর ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরে আসেন। এই প্রসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন তারকা বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই আমি নিজের খেলায় উন্নতি করেছি।প্রথম দু-তিনটি ম্যাচের পারফরম্যান্স যদি দেখেন, আর তারপর আমি যেভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছি, তাতে বোঝা যাবে যে আমি প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে আরও উন্নতি করেছি।ঠিক এটাই আমার প্রয়োজন ছিল।’ এই খেতাব জয়ের পর সিনারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ। বর্তমানে চোটের কারণে কোর্টের বাইরে থাকা কার্লোস আলকারাজের সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের থেকে তিনি এখন মাত্র দু’ধাপ পিছিয়ে।
ভবিষ্যৎ রাজা-রানির সঙ্গে দেখা
সিনারকে অভিনন্দন জানান ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ রাজা প্রিন্স উইলিয়াম এবং ভবিষ্যৎ রানি প্রিন্সেস ক্যাথরিন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সন্তান প্রিন্স জর্জ এবং প্রিন্সেস শার্লটও। গত বছরের ফাইনালের পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কী বলবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি বলে স্বীকার করেছিলেন সিনার। তবে এবারও পরিস্থিতি যে খুব একটা সহজ ছিল না, তাও জানিয়েছেন তিনি। হাসতে হাসতে সিনার বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করি, ওরা এখনও টেনিস খেলে কি না। ওরা খুব খুশি হয়ে বলল, হ্যাঁ, খেলে।আমাদের মধ্যে খুবই কম কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে।’
Leave a Comment