ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ রবিবার সমাজমাধ্যমে আমেরিকাকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। আমেরিকা প্রতিশ্রুতি না রাখলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। সমাজমাধ্যমে এই হামলার কথাও জানানো হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ফের উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর হামলা গভীর রাত থেকে শুরু হয়। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানান, স্থানীয় সময় রাত আড়াইটে থেকে গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন করে হামলার লক্ষ্য হল হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ইরানের হামলা কমিয়ে দেওয়া।
পাশাপাশি, ইরানের বাহিনীকে জবাবদিহি দিতে বলেছেন মার্কিন বাহিনীর মুখ্য কমান্ডার। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স সিএনএনকে জানান, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে কালিবাফ সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেকেন, ‘একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, কথা রাখুন, নয়তো তার ফল ভুগতে হবে। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে’।
অন্যদিকে, রবিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁদেরর সামরিক অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
খবর অনুযায়ী, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের একাধিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, সিরিক ও বন্দর আব্বাস-সহ একাধিক বন্দর শহরে গোলাবর্ষণ হয়েছে। কাশেম দ্বীপের কাছ থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। এই এলাকাগুলিতে ইরানের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ দিনের মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকও।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া সঙ্কট কাটানোর লক্ষ্যে গত শনিবার ওমানে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস সিদ্দিকি। সেখানে ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। কিন্তু সেই আলোচনা থেকে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসেনি বলে খবর। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের অভিযোগ, ওমানের উপর আমেরিকার চাপ থাকায় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে মে মাসের পর থেকে হামলা বন্ধ থাকলেও রবিবার সেখানে ফের ইরানের হামলার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্য সমঝোতা আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারেও এপ্রিলের পর ইরান প্রথমবার হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
রবিবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজও হামলার মুখে পড়ে। ইরানের দাবি, প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতি ছাড়াই জাহাজটি ওই জলপথে প্রবেশ করেছিল। এরপর তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কথা ঘোষণা করে। আক্রান্ত জাহাজে ১১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও এক জন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার পরই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
Leave a Comment