ভারতীয় ক্রিকেটে (Team India) বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)-র আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিসিসিআই (BCCI)-এর নির্বাচক কমিটি ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন প্রজন্মের পেসারদের উপরই ভরসা করতে চাইছে। ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শামির জায়গা ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিসিসিআই এখনও পর্যন্ত শামিকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া বা তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar)-এর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি ভবিষ্যতের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (World Test Championship) এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ (ICC Cricket World Cup) মাথায় রেখে প্রায় ১৫ জন তরুণ পেসারকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করছে। লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের জন্য নতুন পেস বোলিং ইউনিট গড়ে তোলা।
সূত্রের দাবি, এই পরিকল্পনায় মহম্মদ শামির নাম নেই। এমনকি তাঁকে নিয়ে আলাদা করে কোনও ঘোষণা না করেই ধীরে ধীরে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে বোর্ড। অতীতে চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara), ঈশান্ত শর্মা (Ishant Sharma) এবং ঋদ্ধিমান সাহা (Wriddhiman Saha)-র ক্ষেত্রেও এমনটাই হয়েছিল বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা রয়েছে।
শামির ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাঁর ফিটনেস। ৩৫ বছর বয়সি এই পেসার গত কয়েক বছরে একাধিক চোটে ভুগেছেন। সেই কারণেই নির্বাচকরা ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নিয়মিত ফিট বোলারদের গুরুত্ব দিতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)-ও চোট সমস্যায় ভুগলেও তাঁর ক্ষেত্রে আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে তাঁকে বেছে বেছে ম্যাচ খেলানো হতে পারে। পাশাপাশি মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)-কে পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিন্তু তাঁর পক্ষে কথা বলছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ধারাবাহিকভাবে সফল। রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনালে ৮ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি পুরো মরশুমে ৭ ম্যাচে ৩৭টি উইকেট শিকার করেছেন। বিজয় হাজারে ট্রফি (Vijay Hazare Trophy)-তেও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৫টি উইকেট। আইপিএলের সাম্প্রতিক মরশুমেও তিনি ১২টি উইকেট তুলে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র বয়স ও ফিটনেসের কারণেই কি শামিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাইরে রাখা হবে? একইসঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা আরও কয়েকজন পেসারের সুযোগ না পাওয়া নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরা কী সিদ্ধান্ত নেন, তা ভবিষ্যতের দল ঘোষণাতেই স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত শামির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও, বোর্ডের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও সামনে আসেনি।
Leave a Comment