এশিয়াডের আগে বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে যেতে চান সোনার মেয়ে অস্মিতা, কিন্তু বড় বাধার মুখোমুখি তিনি

By Suman Debnath

August 4, 2026 12:55 PM

এশিয়াডের আগে বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে যেতে চান সোনার মেয়ে অস্মিতা, কিন্তু বড় বাধার মুখোমুখি তিনি


সাত মাস আগে বাবাকে হারানোর পর মাথায় প্রায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল তাঁর। কী ভাবে নিজের খেলা চালাবেন, সংসার চালাবেন, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না ত্রিপুরার কমনওয়েলথ সোনাজয়ী জুডোকা অস্মিতা দে (Asmita Dey)। তখন তাঁকে ভরসা জুগিয়েছিল উত্তর প্রদেশ সরকারের একটা চাকরি। যে চাকরিটা তিনি পেয়েছিলেন ২০২৩-এ। কিন্তু চাকরি করে ঘরসংসার চালানো যায়, নিজের খোরাকটুকু জোগাড় করা যায়। কিন্তু বড় মঞ্চে সাফল্য পাওয়ার জন্য বিদেশে গিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া যায় কি? একেবারেই না।

তাও কমনওয়েলথ গেমসের আগে জার্মানিতে গিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন অস্মিতা (Asmita Dey)। সে জন্য ঋণ নিয়েছিলেন, যে লোন এখন তাঁকে প্রতি মাসে ইএমআই-এর মাধ্যমে শোধ করতে হচ্ছে তাঁকে। সেই ফলও তিনি পেয়েছেন। কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিততে পেরেছেন। এখন তাঁর সামনে আরো বড় লক্ষ্য। সেপ্টেম্বরে জাপানে এশিয়ান গেমসে সাফল্য পাওয়া। কিন্তু সে জন্যও বিদেশে গিয়ে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কিন্তু এরপর আর কী করে টাকা জোগাড় করবেন তিনি?

আরও পড়ুন: শহরে এলেন জেমি ম্যাকলারেন, আজ ডুরান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই হয়তো দেজান-আলবার্তো, মিগুয়েলও এলেন বলে!

গ্লাসগো থেকে ফিরে তিনি (Asmita Dey) সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতার পর এখন আমার লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে সফল হওয়া। কিন্তু সে জন্য আমাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ১৭ থেকে ২২ অগাস্ট স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির হবে, যেখানে বহু আন্তর্জাতিক জুডোকা ও কোচেরা থাকবেন। ওই প্রশিক্ষণ শিবিরে আমি যোগ দিতে চাই। এরপর এশিয়ান গেমসের আগে জাপানে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরেও আরো উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে চাই আমি। কিন্তু এর জন্য প্রচুর খরচ। আমার কাছে এত টাকা নেই’।

আরও পড়ুন:  বিশ্বকাপ ফাইনালের বাঁশি বাজানোর পরই বিদায়! অবসরের ঘোষণা রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের

কমনওয়েলথ গেমসের আগে বিদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে অস্মিতা (Asmita Dey) বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসের আগে মে থেকে জুন জার্মানিতে এক প্রশিক্ষণ শিবিরে আমি গিয়েছিলাম নিজের উদ্যোকে ঋণ নিয়ে। চাকরির বেতন থেকে আমি আমার পরিবারের যাবতীয় খরচ চালাই এবং নিজের খরচও চালাই। ২০২৩-এ এই চাকরিটা পাওয়ার পর আমার খুব উপকার হয়। আমার জুডোর উন্নতিতে এই চাকরির গুরুত্ব অপরিসীম। সে জন্য আমি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। যখন আমার কাছে কিছুই ছিল না, তখন এই কনস্টেবলের চাকরিটাই আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই চাকরির বেতনের টাকা থেকেই আমার খেলার যাবতীয় খরচ আমি করি’।

আরও পড়ুন: ‘দাদা সব বদলে দিয়েছে, কোচ হিসেবে প্রথম বছরেই সফল’— কলকাতার মহারাজের প্রশংসায় দক্ষিণ আফ্রিকার মহারাজ

কিন্তু এই টাকাতে যে এশিয়ান গেমসের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে যেতে পারবেন না বর্তমানে সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকরিরত অস্মিতা (Asmita Dey), তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সে জন্যই কোনো স্পনসর বা সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। উত্তর প্রদেশ জুডো সংস্থার সচিব মুনওয়ার আনজার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি এই ব্যাপারে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের ক্রীড়া দফতরের কাছে আবেদন জানাবেন, যাতে অস্মিতার এই বিশেষ প্রশিক্ষণের খরচ তারা বহন করে।

গ্লাসগোয় কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের পর অবশ্য অস্মিতা (Asmita Dey) এখন সারা দেশেই বেশ জনপ্রিয়। গ্লাসগো থেকে ফেরার পর তাঁকে দিল্লি বিমানবন্দরে বহু মানুষ অভ্যর্থনা জানান। উত্তর প্রদেশ এবং ত্রিপুরা- দুই রাজ্য থেকেই বহু উৎসাহী মানুষ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। বিমানবন্দরের বাইরে বেরোতেই তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে জয়ধ্বনী দেওয়া শুরু করেন অস্মিতাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা জনতা। ‘এমন অভ্যর্থনা যে পাব, আশা করিনি। গ্লাসগোয় যাওয়ার আগেও ভাবতে পারিনি এমন পরিবেশের মধ্যে দেশে ফিরব। আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে আমার প্রয়াত বাবার কথা, যাঁর জন্য আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। আজ বাবা থাকলে কত খুশি হতেন। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য যে, তিনি আমার এই সাফল্য দেখতে পেলেন না’।

আরও পড়ুন:  ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ঈশ্বরের হাতের ইতিহাস ভুলে মেসিদের কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এটা আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই’

https://youtube.com/shorts/ISwO5u9gLkk?si=2mjoI6eEWw0AutUO



Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment