ভারতীয় ফুটবল যে তিমিরে ছিল, সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারল না। ডুরান্ড কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ডার্বি ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে দিশাহীন ফুটবল উপহার দিল। বিরক্তিকর ডার্বি ম্যাচে অবশ্য মোহনবাগান ১-০ গোলে হারিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গলকে। কলকাতায় লাল-হলুদের কোচ হাবাস প্রথম ম্যাচেই পিছিয়ে পড়লেন মোহনবাগানের কৌশলে। দুটো দলই সেই অর্থে প্রস্তুতি না নিয়ে ডার্বি ম্যাচে খেলতে নেমেছিল। দর্শকদের ভিড় উপচে না পড়লেও বলতে দ্বিধা নেই, তাঁদের প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য ছুটে এসেছিলেন। তাঁদের কোনও মনই ভরল না। বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার পরে এমন পরিকল্পনাহীন ফুটবল দেখাটা বেশ কষ্টকর। তবুও কলকাতা ময়দানে সবসময়ই ডার্বি ম্যাচকে কেন্দ্র করে উৎসাহের অভাব থাকে না। অতীতের ডার্বি ম্যাচ যেভাবে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ত সারা শহরজুড়ে, তার ছবিটা এখনও সেইভাবে স্পষ্ট হয় না। তবুও ডার্বি ম্যাচ বলতে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটা আলাদা অনুভূতি তৈরি হয়। কিন্তু মনে রাখার মতো খেলা চোখেই পড়ল না। দুই প্রধানই বিদেশিহীন প্রথম একাদশ গঠন করে। তবে পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে বিদেশিরা মাঠে নামলেও খেলার চেহারায় কোনও পরিবর্তন আনতে পারেননি।
সত্যি কথা বলতে কী, সবুজ-মেরুন ও লাল-হলুদ দলের কোনও প্রস্তুতিই ছিল না। বল দখলের লড়াইয়ে সেই অর্থে কেউ কাউকে টেক্কা দিতে পারেনি। আবেগ থাকলেও তা হৃদয়ে স্পর্শ করেনি। বেশ কিছুদিন আগে থেকেই দুই দলের কর্মকর্তারা ক্রীড়াসূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ক্লাব অন্ধকারেই ছিল। দল গঠনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিযোগিতায় খেলতে নামতে হয়েছে। এটা অনেকটা জেলার মাঠে ক্লাব প্রতিযোগিতার মতো দেখতে পাওয়া গেল। ডুরান্ড কাপ ফুটবলের কর্মকর্তারা ভাবলেনই না প্রথম ম্যাচটাই ডার্বি হওয়ায় ফুটবলাররা নিজেদের তৈরি করতে পারেননি। এই অবস্থায় যে খেলা খেলতে হয়, তাই খেলেছেন ফুটবলাররা। দুই দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস ছিল অত্যন্ত খারাপ। ৩০-৩৫ মিনিটের পরেই খেলোয়াড়রা হাফিয়ে উঠতে শুরু করেন। তাই দায়সারা ফুটবল খেলাই দেখতে পাওয়া গেল।
খেলার প্রথমার্ধে মোহনবাগান গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করলেও আসল লক্ষ্যে পৌঁছতেই পারেননি। আর ইস্টবেঙ্গল সারা মাঠে কী খেলা খেলল, তার ব্যাখ্যা দিতে পারবেন ফুটবলাররাই। দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ম্যাচেই হার স্বীকার করলেন কোচ হাবাস। অবশ্য হাবাসের কোনও দোষ নেই। মাত্র তিন-চার দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি এখনও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেইভাবে পরিচিতই হতে পারেননি। তারই মধ্যে বড় ম্যাচ খেলতে হল। সেখান থেকে এই খেলায় কী ফুটবল দেখতে পাওয়া যাবে, তা বোঝাই গেল। তবে মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস কয়েকটি দিন বেশি সময় পেলেও খেলোয়াড়রা মন ভরাতে পারেননি এই ম্যাচে। এলোমেলো খেলায় সারাক্ষণই দুই দলের ফুটবলাররা ছুটে বেড়িয়েছেন, তবুও সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা কিছুটা ধরে খেলার চেষ্টা করলেও সেইভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। খেলার প্রথম পর্বে কোনও পক্ষই গোল করতে পারেনি। তবে খেলার শুরুতে মোহনবাগান একটি পেনাল্টি দাবি করলেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি।
দ্বিতীয় পর্বে দুই দলের ফুটবলাররা কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করলেও কোনও রেখাপাত করতে পারেননি। খেলার ৫২ মিনিটের মাথায় আবদুল সামাদের গোলে মোহনবাগান এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়েও ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে পারেননি। মাঝেমধ্যে তারা গতি বাড়িয়ে আক্রমণে তীব্রতা আনার চেষ্টা করেন। খেলার শেষ হওয়ার ১৫-১৬ মিনিট আগে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ কিছুটা চোখে পড়লেও, তা থেকে গোল আসেনি। তারই মধ্যে রশিদ দু-দু’টি সুযোগ নষ্ট করেন। নির্দিষ্ট সময়ের খেলার মধ্যে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিনিট খেলায় কিছুটা উত্তেজনা দেখতে পাওয়া যায়। এদিন প্রতিযোগিতা বলে কিক মেরে ডুরান্ড কাপ ডার্বি ম্যাচের সূচনা করেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
Leave a Comment