শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের সার্বিয়ান মিডফিল্ডার দেজান দ্রাজিচ ছাড়া আর কোনো বিদেশিকে সবুজ-মেরুন জার্সিতে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজ শুক্রবারই এসে পৌঁছেছেন। শুক্রবার শহরে এসে শনিবারই তাঁকে মাঠে নামিয়ে দেবেন কোচ, এমন সম্ভাবনা কম। তাই শনিবার মোহনবাগান সমর্থকদের নজরে থাকবেন দ্রাজিচ।
সেই দ্রাজিচ অবশ্য নিজেও জানেন না, শনিবার তিনি প্রথম এগারোয় থাকবেন, নাকি পরে নামতে হবে তাঁকে। বলেন, ‘আমি কাল খেলব কি না, তা কোচই ঠিক করবে। তবে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। জানি না কোচের সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার কোনো চোট-আঘাত নেই। তবে অনেকদিন পরে মাঠে ফিরেছি বলে সামান্য জড়তা আছে হয়তো। দেখা যাক, কাল কী অবস্থায় থাকি। দেশীয় হোক বা বিদেশি, কলকাতায় ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা সবার কাছেই অসাধারণ। আমার মনে হয়, গোল, ড্রিবলিং-এগুলোই কাল তফাৎ গড়ে দেবে’।
২০২৪-এ এফসি গোয়াতে যোগ দিয়ে প্রথম ভারতে আসেন তিনি। এ বছরই মোহনবাগানে যোগ দেন। কিন্তু কলকাতায় এসে মরসুমের শুরুতেই ডার্বিতে নামতে হবে তাঁকে, যা নিয়ে দ্রাজিচ বলেন, ‘দলের সবার পক্ষেই এই অবস্থায় এমন একটা বড় ম্যাচ খেলা বেশ কঠিন। কারণ, আমরা সবাই মিলে অনেক কিছুই করার চেষ্টা করছি, যা আমাদের সবার কাছেই নতুন। এটা সত্যিই কঠিন পরিস্থিতি। আমাদের পুরোপুরি একটা শেপে আসতে অন্তত দু’সপ্তাহ লাগার কথা। কোচ আমাদের কাছ থেকে যা চাইছেন, তা হয়তো আমরা এখনই তাকে পুরোপুরি দিতে পারব না। কিন্তু যতটা পারি দেওয়ার চেষ্টা করব’।
কলকাতার ক্লাবে খেলা মানেই যে প্রত্যাশার চাপ সামলানো, তা ভালো করেই জানেন দ্রাজিচ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের চাপ আমার ভাল লাগে। এটা ইতিবাচক চাপ। এই ধরনের চাপ থাকা ভাল। আমরা কাল জিততেই মাঠে নামব। আমরা মোহনবাগান দল এবং সবাই আমাদের কাছ থেকে জয়ই দেখতে চায়’।
সবুজ-মেরুন সমর্থকদেরও বেশ পছন্দ হয়েছে দ্রাজিচের। সমর্থখদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় নামার সময় দেখছিলাম, সমর্থকেরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে এবং অভ্যর্থনা জানাতে এসেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে মোহনবাগানের মতো বড় ক্লাবে এটাই হওয়া স্বাভাবিক। আমি আশা করেছিলাম, এমনটাই হবে। বড় ক্লাবগুলোতে তো এটাই হয়। সমর্থকদের বলব, কাল মাঠে আসুন ও ম্যাচ উপভোগ করুন’।
কলকাতার ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগে মোহনবাগানের প্রাক্তন বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এই সার্বিয়ান। দলের ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়েও খুশি। বলেন, ‘আমি এখানে আসার আগে আর্মান্দো সাদিকু, জনি কাউকোর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ওরা দুজনেই আমাকে বলে মোহনবাগান বড় ক্লাব। খুব ভাল দল। এই দলের সতীর্থরা ভালো। যে ভারতীয় খেলোয়াড়দের আমি চিনি, তাদের সঙ্গেও মানিয়ে নিচ্ছি। অসুবিধা হচ্ছে না’।
Leave a Comment