---Advertisement---

কেন প্রতি বছর ২৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিজয় দিবস’?

By Suman Debnath

July 26, 2026 12:20 PM

কেন প্রতি বছর ২৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিজয় দিবস’?

---Advertisement---


২৬ জুলাই ভারতের সামরিক ইতিহাসের এক গৌরবময় দিন। ১৯৯৯ সালের এই দিনেই প্রায় তিন মাসের কঠিন যুদ্ধের শেষে কার্গিল (Kargil)-এর দখল হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি পোস্টগুলি পুনর্দখল করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন বিজয় (Operation Vijay)’-এর সফল সমাপ্তির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে ফের ভারতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই ঐতিহাসিক সাফল্য এবং যুদ্ধে আত্মবলিদানকারী বীর সেনাদের স্মরণে প্রতি বছর ২৬ জুলাই পালন করা হয় কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas)। ২০২৬ সালে এই ঐতিহাসিক জয়ের ২৭ বছর পূর্ণ হল।

১৯৯৯ সালের মে মাসে নিয়ন্ত্রণরেখা (Line of Control – LoC) সংলগ্ন কার্গিলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্বাভাবিক গতিবিধি প্রথম নজরে আসে। পরে ভারতীয় সেনার অনুসন্ধানে জানা যায়, পাকিস্তানের সেনা ও অনুপ্রবেশকারীরা গোপনে ভারতের একাধিক কৌশলগত উচ্চভূমি দখল করে বসেছে। এই পাহাড়গুলি থেকে শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়ক (Srinagar-Leh Highway)-এর উপর নজর রাখা সম্ভব ছিল, যা লাদাখের সঙ্গে দেশের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ফলে পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এই দখলদারিত্বের জবাব দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী শুরু করে অপারেশন বিজয়। কিন্তু অভিযান ছিল অত্যন্ত কঠিন। শত্রুপক্ষ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করায় ভারতীয় সেনাদের খাড়া বরফঢাকা ঢাল বেয়ে নিচ থেকে ওপরে উঠতে হয়েছে। অক্সিজেনের স্বল্পতা, তীব্র ঠান্ডা এবং মাথার উপর থেকে চলতে থাকা গুলি ও মর্টারের মধ্যেও অভিযান চালিয়ে যান জওয়ানরা।

আরও পড়ুন:  সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ, দিল্লিতে পড়ুয়াদের মিছিলে ‘পুলিশি দমনপীড়ন’-এর অভিযোগে সরব আইনজীবীদের একাংশ

২৬ মে অভিযানে যোগ দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। তাদের অভিযানের নাম ছিল অপারেশন সফেদ সাগর (Operation Safed Sagar)। একই সময়ে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) আরব সাগরে কৌশলগত তৎপরতা বাড়ায়। তবে ভারত স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—অনুপ্রবেশকারীদের সরানো হবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করা হবে না।

যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে টোলোলিং (Tololing) পুনর্দখলের মাধ্যমে। দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ১৩ জুন ভারতীয় সেনা এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখল করে। এই সাফল্যের পর সেনাবাহিনীর মনোবল অনেকটাই বাড়ে এবং পরবর্তী বড় লক্ষ্য হয়ে ওঠে টাইগার হিল (Tiger Hill)

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত টাইগার হিল ছিল যুদ্ধের অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। কঠিন পাহাড়ি পথে রাতের অন্ধকারে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সেনারা ৪ জুলাই এই শৃঙ্গ পুনর্দখল করতে সক্ষম হন। এই অভিযানে অসাধারণ সাহসিকতা দেখান গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব (Grenadier Yogendra Singh Yadav)। গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং পরে পরমবীর চক্র (Param Vir Chakra)-এ সম্মানিত হন।

কার্গিল যুদ্ধের আরেক অবিস্মরণীয় নাম ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা (Captain Vikram Batra)পয়েন্ট ৫১৪০ (Point 5140) পুনর্দখলের পর তাঁর বিখ্যাত উক্তি—“ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর”—গোটা দেশের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পয়েন্ট ৪৮৭৫ (Point 4875) পুনর্দখলের অভিযানে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ৭ জুলাই তিনি শহিদ হন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকেও মরণোত্তর পরমবীর চক্র প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন:  গুজরাতে ফের চাঁদীপুরা ভাইরাসের দাপট, ৩ শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা

শুধু টোলোলিং বা টাইগার হিল নয়, বাতালিক (Batalik), কাকসার (Kaksar), মুশকোহ উপত্যকা (Mushkoh Valley)-সহ একাধিক এলাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় সেনা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলি পুনর্দখল করে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) অপারেশন বিজয়ের সাফল্যের কথা জাতির উদ্দেশে ঘোষণা করেন। অবশেষে ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কার্গিলের এই বিজয় সহজে আসেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে ৫২৭ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন এবং ১,৩৬৩ জন আহত হন। অসামান্য বীরত্বের জন্য চারজনকে পরমবীর চক্র, নয়জনকে মহাবীর চক্র এবং ৫৫ জনকে বীর চক্রে সম্মানিত করা হয়। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস ও কর্তব্যনিষ্ঠার অনন্য উদাহরণ।

তাই ২৬ জুলাই শুধু একটি সামরিক বিজয়ের দিন নয়। এটি সেই সব বীর সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন, যাঁরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। কার্গিলের বরফঢাকা পাহাড় আজও সেই আত্মবলিদান, সাহস এবং অদম্য দেশপ্রেমের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment