দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বিতর্কের আবহে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করলেন একাংশ আইনজীবী। জরুরি শুনানি না হওয়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
দিল্লিতে NEET-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে এবার সরব হলেন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)-এর একাংশ আইনজীবী। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত চত্বরে তাঁরা একত্রিত হয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধান রক্ষার বার্তা দেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফের জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে এসেছে ছাত্র আন্দোলন এবং পুলিশি পদক্ষেপের বিতর্ক।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রবীণ আইনজীবী -সহ একাধিক আইনজীবী। দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তাঁরা সম্মিলিতভাবে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন। কর্মসূচির আগে ইন্দিরা জয় সিং অনুরোধ জানান, প্রতিবাদ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে এবং কোনও রাজনৈতিক বা উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া যাবে না।
বুধবার রাতেই সমাজমাধ্যমে এই কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছিল। ‘গণতন্ত্র বাঁচান, সংবিধান বাঁচান’ বার্তা দিয়ে আইনজীবীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যেই অভিযোগ ওঠে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর ফের পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।
এর আগে দিল্লিতে ছাত্রছাত্রীদের উপর কথিত পুলিশি হামলার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে বুধবার প্রধান বিচারপতি -র বেঞ্চ সেই আবেদন জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। শুনানির সময় আবেদনকারীদের আইনজীবীরা ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখাতে চাইলে প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত ভিডিও দেখতে আগ্রহী নয় এবং এই বিষয়ে সময় নষ্ট করতে চান না।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের পর ফের আলোচনায় ফিরে এসেছে তাঁর কয়েক মাস আগের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। মে মাসে একটি মামলার শুনানিতে তিনি সমাজমাধ্যমে সক্রিয় কিছু ব্যক্তিকে ‘ককরোচ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করেন, ওই মন্তব্য সাধারণ তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়ো আইনের ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গেই করেছিলেন। তবু সেই মন্তব্যকে ঘিরেই পরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে, যা বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য ও বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
Leave a Comment