‘এরা যুবদের কথা শোনে না’, রাহুলের শব্দবন্ধ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ

By Suman Debnath

July 29, 2026 6:35 PM

‘এরা যুবদের কথা শোনে না’, রাহুলের শব্দবন্ধ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ


নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দেশ। ককরোচদের তীব্র আন্দোলন রাজধানীর রাজপথে দিল্লি পুলিশের দমনপীড়নেও মাথানত করেনি। অবশেষে পদত্যাগ করতে হয় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এবার সেই দমনপীড়ন নিয়ে সংসদে ঝড় তুললেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করলেন সেটা অসংসদীয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার জেরে হট্টগোল হয় লোকসভায়। বিজেপি সাংসদ কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, ‘অসংসদীয়’ ভাষায় বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সংসদের রেকর্ড থেকে শব্দটি বাদ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। অধিবেশন আড়াইটে পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়।

এদিকে প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় সুর চড়ান রাহুল। কিন্তু রাহুলের ব্যবহার করা ‘আপত্তিকর’ কিছু শব্দ লোকসভার রেকর্ড থেকে বাদ দিতে বলেন স্পিকার ওম বিড়লা। এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাহুলকে বলতে থাকেন, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনকারীরা দেশের গর্ব। তাঁরা কোনও ঘৃণা ভাষণ দেননি। তাঁকে এক তরুণী বলেছেন, ‘ওরা যুবদের কথা শোনে না।’ বিজেপি সমর্থকদের ‘অন্ধ ভক্ত’ বলেও তোপ দাগেন। রাহুলের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পরে রাহুল জানান, ওই শব্দ সরকারের উদ্দেশে তিনি ব্যবহার করেননি। ওই শব্দগুলি রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হোক।

আরও পড়ুন:  ‘সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ করুন, না হলে পাবেন না জল’, সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা ভারতের

অন্যদিকে সংসদে রাহুল ‘তিন শ্রেণির মানুষের’ কথা উল্লেখ করেন— পড়ুয়া, বোকা এবং অন্ধভক্ত। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বক্তৃতার সময় রাহুল নিট আন্দোলনের বিষয়ে বলতে গিয়ে এক ১৮ বছর বয়সি পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথা স্মরণ করেন। ওই পড়ুয়া তাঁকে বলেছেন, ‘অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি পুরোপুরি মেনে নেন যে, অন্য এক ইডিয়ট্‌ই ভগবান।’ অভিভাবকদের ভয় সত্ত্বেও বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও খোঁচা দিয়ে রাহুল বলেন, ‘তথাকথিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহস হলো না লোকসভায় এসে বসার। আমাকে ওই পড়ুয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থী সবসময় সত্যের পিছনে ছুটতে থাকে। তার কাছে সত্যই সুন্দর। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তা হলে ইডিয়টস কারা? তখন ওই পড়ুয়া আমাকে বলেন, বোকাদের একটা প্রতিচ্ছবির প্রয়োজন। বোকারা নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চান। আমি তাঁকে তৃতীয় শ্রেণির মানুষের কথা জিজ্ঞাসা করি। আমার কাছে তিনি জানতে চান, তৃতীয় শ্রেণির মানুষ কারা? আমি তাঁকে বলি, অন্ধভক্ত। অন্ধভক্তদের কোথায় রাখা উচিত? তখন তিনি আমায় বললেন, অন্ধভক্ত হলেন এমন একজন, যিনি বিশ্বাস করেন যে, একজন বোকাই ঈশ্বর।’

আরও পড়ুন:  আন্দোলনে ইতি টানল আরশোলারা - Dainik Statesman

তাছাড়া রাহুলের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি বলেন, যতক্ষণ না কংগ্রেস সাংসদ কোনও তথ্য তুলে ধরছেন তাঁর কোনও মন্তব্যই রেকর্ডে রাখা হবে না। তাঁর কথা না শুনলে পরবর্তী বক্তাকে এখনই ডেকে নেওয়া হবে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তখন কংগ্রেস সাংসদদের চেঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘রাহুলজিকে বলতে দেওয়া হোক।’ এনডিএ সাংসদরা প্রতিবাদ করতেই থাকেন। তারপর অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। আর কিরেন রিজিজু বলেন, ‘রাহুল গান্ধী যদি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না করতেন তাহলে আপত্তি তুলতাম না। আমি মনে করি, একজন পড়ুয়ার নামে তিনি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। এটি বর্জন করা উচিত।’

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment