দীর্ঘ ২১ দিনের অনশনের পর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। হাসপাতাল সূত্রে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, তিনি এখনও অনশন ভাঙেননি এবং চিকিৎসা গ্রহণেও অনীহা দেখিয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর শরীরে ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
হাসপাতালের বুলেটিনে কী জানানো হয়েছে?
শনিবার সফদরজং হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ায় শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে চাইলেও ওয়াংচুক এখনও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে হাসপাতাল জানিয়েছে।
দীর্ঘ অনশনে কী ধরনের ঝুঁকি থাকে?
জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. রুদ্রজিৎ পাল বলেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে কিটোন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে কিটোনের মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাঁর কথায়, রক্তে কিটোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরের অ্যাসিড-বেস ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে শুধু ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতাই নয়, কিডনি ও হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতার উপরও গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
২১ দিনে কমেছে প্রায় ১০ কেজি ওজন
সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো জানিয়েছেন, অনশনের শুরু থেকেই তিনি শুধু নুন মেশানো জল পান করছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং নুনজল ছাড়া অন্য কোনও খাবার গ্রহণ করেননি।
পরিবারের দাবি, গত ২১ দিনের অনশনে তাঁর ওজন প্রায় ৯.৫ কেজি কমে গেছে, যা চিকিৎসকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
শুধু নুনজল কতটা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনশনের সময় শরীরে পানির ঘাটতি এড়াতে জল পান জরুরি হলেও দীর্ঘদিন শুধুমাত্র নুনজলের উপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়।
ডা. রুদ্রজিৎ পালের মতে, নুনজল সাময়িকভাবে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শুধু নুনজল খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, শক্তি এবং অন্যান্য খনিজের ঘাটতি তৈরি হয়, যা বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
চিকিৎসকদের নজরে সোনম
বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতির উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, ওয়াংচুক এখনও নিজের আন্দোলনের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেননি। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Comment