---Advertisement---

জরুরি অবস্থার ছায়া! নাগরিক অধিকার খর্বের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল, কাঠগড়ায় দিল্লি পুলিশ

By Suman Debnath

October 11, 2026 2:55 PM

জরুরি অবস্থার ছায়া! নাগরিক অধিকার খর্বের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল, কাঠগড়ায় দিল্লি পুলিশ

---Advertisement---


জরুরি অবস্থার প্রায় ৫০ বছর পর নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগে এমন মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে বলে মন্তব্য করলেন আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী। দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড়, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগে রবিবার বিশেষ শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলা শুধু কয়েক জন রাজনৈতিক নেতা বা সাংসদের মুক্তির প্রশ্ন নয়, সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার রক্ষার লড়াইও।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। মেট্রো ও বাস চলাচলেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এর জেরে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে মানেকা গুরুস্বামী জানান, মামলা দায়েরের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় কত জন রাজনৈতিক নেতা, সাংসদ, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর কথায়, “এটা কোনও এক জন রাজনৈতিক নেতা, ১০ জন সাংসদ বা তিন জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুক্তির মামলা নয়। এটা সংবিধানের জন্য হেবিয়াস কর্পাস।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করেই রবিবার সকালে বিশেষ শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিবাদের অধিকার খর্বের অভিযোগ

দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ধরপাকড় ও বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানির সময় আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ দমন করতে গিয়ে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

আইনজীবী শাদান ফারাসত দাবি করেন, শনিবারের প্রতিবাদ চলাকালীন পুলিশ তাঁকে মারধর করে আটক করে এবং চলন্ত বাসে ছুড়ে ফেলে দেয়। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু আইনজীবীদের অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানোর অধিকারের সঙ্গে জড়িত। দিল্লির পরিস্থিতিকে ‘দমনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পুলিশি রাষ্ট্রের এক ধাপ দূরে ছিলাম।”

প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট চার কিলোমিটার নিষিদ্ধ এলাকার বাইরেও রেল স্টেশনের কাছে লোকজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিচারপতি বাগচী জানান, আদালত পরিস্থিতির গুরুত্বকে খাটো করে দেখছে না।

ব্যারিকেড সরানো ও মেট্রো চালুর আর্জি

শুনানিতে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন অবিলম্বে ব্যারিকেড সরিয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং মেট্রো পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। তবে মৌখিকভাবে তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে অবমাননার মামলায় নির্দেশ দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। অভিযোগের সমর্থনে অতিরিক্ত তথ্য আনুষ্ঠানিক আবেদনের মাধ্যমে জমা দেওয়ার কথাও জানায় বেঞ্চ।

এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে রবিবার বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে কর্মসূচির আগে শনিবার তাঁদের বিমান থেকে নামার পর আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও মধ্যরাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রবিবারও দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা বজায় ছিল। তবে প্রতিবাদ কর্মসূচির কেন্দ্র যন্তর মন্তর চত্বর ছিল কার্যত জনশূন্য। নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধের যৌক্তিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির দিকে এখন নজর রয়েছে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment