গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী’ কাজের অভিযোগ তুলে ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠনগুলির একাংশ এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তবে এই জোড়া কর্মসূচির পুলিশের অনুমতি মেলেনি বলে খবর।
দিল্লিতে শুক্রবার যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) অবস্থান বিক্ষোভের ঘোষণা করেছে একাধিক ছাত্র-যুব ও নাগরিক সংগঠন। কিন্তু দিল্লি পুলিশ ওই কর্মসূচিরর অনুমতি দেয়নি। সেই সঙ্গে যন্তর মন্তরে বিএনএস ১৬৩ জারি করা হয়েছে।
আজ সকাল থেকেই যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ছবি চোখে পড়ে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় রাখা হয়েছে ‘বজ্র’ নামে মাল্টি-ব্যারেল শেল লঞ্চার এবং ‘বরুণ’ নামে জনকামানবাহী গাড়িও। কয়েক মাস আগে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচরা যন্তরে মন্তরে প্রতিবাদ দেখায়। সেই সময় রোড ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে
পুলিশ অনুমতি না মেলার পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এসএফআই সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা। পুলিশের বক্তব্য, অনুমতি ছাড়া জমায়েত, স্লোগান, বক্তৃতা বা বিক্ষোভ হলে পদক্ষেপ করা হবে।
নিরাপত্তার কারণে শুক্রবার দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবনের আশপাশের রাস্তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যন্তর মন্তরের কাছাকাছি ১১টি মেট্রো স্টেশনও নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আজই মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জেল ভরো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কররোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP) । সেখানেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। পুলিশের যুক্তি, ২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শিবাজি পার্কে সাধারণভাবে জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রের রায়গড়ের সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়ে পুনের ৮ ছাত্রের ডুবে মৃত্যু
সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, অনুমতি না মিললেও মুম্বাইয়ের কর্মসূচি হবে। তাঁর দাবি পরবর্তী সময় কলকাতা, বেঙ্গালুরু এবং গোয়াতেও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ‘জেল ভরো’ আন্দোলন চলবে। চলতি মাসের শেষে দিল্লির যন্তর মন্তরেও ফের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দীপকের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশানের ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানে ইস্তফার দাবিতে যেভাবে যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) আন্দোলন চালানো হয়েছিল সেই ধাঁচেই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দেখুন:

Leave a Comment