বিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র নামে মন্দির তৈরির প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিহার রাজ্য রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার) কল্যাণ বোর্ড (Bihar State Transgender Welfare Board)-এর বৈঠকে পাটনায় মোদির নামে একটি মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও এটি একটি প্রস্তাব, মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বা সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসেনি।
বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের অধিকার এবং আইনি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অব রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯ কার্যকর করার উদ্যোগের প্রতি সম্মান জানিয়েই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। সেই কারণেই পাটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি মন্দির নির্মাণের ভাবনা সামনে এসেছে।
ভারতে নরেন্দ্র মোদির নামে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ এই প্রথম নয়। অতীতেও বিভিন্ন রাজ্যে এমন উদ্যোগ দেখা গিয়েছে, যদিও সেগুলি বিতর্কের মুখে পড়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল গুজরাটের রাজকোটে। ২০০৬ সালে কোঠারিয়া গ্রামে একটি মন্দিরে ভারত মাতার ছবির পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদির ছবি রাখা হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালে সেখানে মোদির একটি মার্বেলের মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা করা হলে বিষয়টি জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, তাঁর নামে মন্দির বা মূর্তি নির্মাণ ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী। পরিবর্তে সেই অর্থ ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর মতো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি। পরে উদ্যোক্তারা মোদির মূর্তি সরিয়ে সেখানে ভারত মাতার মূর্তি স্থাপন করেন।
একইভাবে মহারাষ্ট্রের পুনেতেও ২০২১ সালে এক বিজেপি কর্মী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে জয়পুরি মার্বেলের মূর্তি স্থাপন করা হলেও দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর এবং প্রধানমন্ত্রীর আগের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই মূর্তিও সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিহারের সাম্প্রতিক প্রস্তাব সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। অন্যদিকে বোর্ডের সদস্যদের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে সম্মান ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এখন নজর থাকবে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
Leave a Comment