শিক্ষামন্ত্রীর কন্যা বিদেশে পড়েছেন জেনে ট্রোলিং শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। আক্রমণের মাত্রা বাড়ায় শেষ পর্যন্ত অ্যাকাউন্টই ডিলিট করলেন নৈমিষা প্রধান।
নয়াদিল্লি: যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar) আন্দোলন, সংসদ অভিযানে পুলিশি ‘জুলুম’ আর প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের তদন্ত— এই ত্রিমুখী চাপের মধ্যে এ বার ট্রোলিংয়ের শিকার হয়ে সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টই ডিলিট (Delete) করে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কন্যা নৈমিষা প্রধান (Naimisha Pradhan)। মাস্টার্স অফ ল ডিগ্রি শেষ করে আমেরিকার (America) ম্যাসাচুসেটসের টাফস ইউনিভার্সিটির (Tufts University) ফ্লেচার স্কুল থেকে পাশ করা নৈমিষা দেশে নয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন— এই তথ্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল ট্রোলিং। শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণ সহ্য করতে না পেরে অ্যাকাউন্টই মুছে ফেললেন শিক্ষামন্ত্রীর কন্যা।
ঘটনার সূত্রপাত, সম্প্রতি নৈমিষা ভারত-আমেরিকা স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামে (India-US Strategic Partnership Forum) সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দিয়েছেন— এই তথ্য ভাইরাল হওয়ার পর। তার পর থেকেই নেটাগরিকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, “যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নফাঁস হয়, সেই দেশের শিক্ষামন্ত্রী নিজের মেয়েকে বিদেশে পড়ান!” এই যুক্তিতেই নৈমিষার সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ভরে যায় কড়া সমালোচনায়। এমনকি, টাফস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও গিয়ে অনেকে লেখেন নানা মন্তব্য।
তবে যন্তর মন্তরের আন্দোলনকারীদের একাংশ এই ট্রোলিংকে সমর্থন করেননি। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ কখনওই তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রকাশ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, সমালোচকদের পাল্টা যুক্তি, “শিক্ষামন্ত্রী যখন প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ‘রাজনীতির রং’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্রদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনাতেও যখন তিনি নীরব, তখন জনতার ক্ষোভ যে কোথায় গিয়ে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”
এই ঘটনা ডিজিটাল যুগের এক কঠিন প্রশ্নই তুলে ধরেছে— শাসক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ কীভাবে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব? যদিও বিতর্ক যাই হোক, নৈমিষার অ্যাকাউন্ট ডিলিটের ঘটনায় এখন সমাজমাধ্যমে তোলপাড় চলছে।
Leave a Comment