RBI-র সাপ্তাহিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ১.০৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৭৬.২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিদেশি মুদ্রা সম্পদ বৃদ্ধিই এই উত্থানের মূল কারণ।
ভারতের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (Forex Reserves) ফের বৃদ্ধি পেল। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank of India – RBI)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের মোট ফরেক্স রিজার্ভ ১.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে ৬৭৬.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও একই সময়ে সোনার রিজার্ভের মূল্য কমেছে, তবুও বিদেশি মুদ্রা সম্পদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
RBI-র তথ্য বলছে, এই সময়ে বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (Foreign Currency Assets – FCA) বেড়েছে ৪.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় অংশই এই বিদেশি মুদ্রা সম্পদ নিয়ে গঠিত। ডলার ছাড়াও ইউরো, ইয়েন, পাউন্ড-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার মূল্য ওঠানামার প্রভাবও এই অংশের উপর পড়ে।
অন্যদিকে, দেশের স্বর্ণ ভাণ্ডারের (Gold Reserves) মূল্য ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের পরিবর্তন এবং মূল্যায়নের কারণে এই ধরনের ওঠানামা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সোনার রিজার্ভ কমলেও বিদেশি মুদ্রা সম্পদের শক্তিশালী বৃদ্ধির জেরে মোট বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ফরেক্স রিজার্ভ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার সময় আমদানি ব্যয় মেটাতে, মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সাম্প্রতিক সময়ে RBI ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর নজর রাখছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়া দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত বলেই মনে করছে অর্থনৈতিক মহল।
Leave a Comment