বর্তমানে ভারতে বৈদ্যুতিক (EV) গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। সেই সঙ্গে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে E20 পেট্রোল। ই-পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ পেট্রোল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে E20 ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়ির কিছু যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
সম্প্রতি রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানিয়েছেন, গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া এবং ২০১৬ সালের আগে তৈরি হওয়া BS-111 গাড়িগুলিতে কিছু রাবারের যন্ত্রাংশ ও গ্যাসকেট বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় এই পরিবর্তন সহজেই করা সম্ভব।
কোন কোন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
E20 পেট্রোলের ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থার বেশ কিছু অংশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলির মধ্যে রয়েছে রাবারের সিল, ফুয়েল হোস বা জ্বালানির পাইপ, গ্যাসকেট, ও-রিং, প্লাস্টিকের পাইপ, ফুয়েল পাম্পের কিছু অংশ এবং অন্যান্য রাবার ও প্লাস্টিকের ফুয়েল-সিস্টেম কম্পোনেন্ট।
এসব যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও ইলাস্টোমার (রাবারের মতো নমনীয় পদার্থ) E20-এর প্রভাবে আগের তুলনায় ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ARAI-এর গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ARAI) ২০২১ সালে E20 পেট্রোল নিয়ে একটি গবেষণা চালায়। সেই গবেষণায় দেখা যায়, E20 ব্যবহারের ফলে পুরনো গাড়ির কিছু উপাদানে রাবার বেশি শক্ত হয়ে যায়। নমনীয়তা কমে যায়। যন্ত্রাংশের শক্তি কমে যায়। কিছু প্লাস্টিক ও রাবার ফুলে ওঠে। সময়ের সঙ্গে ক্ষয় দ্রুত বাড়তে থাকে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, পিভিসি বা এনবিআর উপাদানের নমনীয়তা E20-এর সংস্পর্শে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একইভাবে এপিক্লোরোহাইড্রিনের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। অন্যদিকে পলি বুটিলিন টেরেফথ্যালেটের টেনসাইন স্ট্রেংথ বা টান সহ্য করার ক্ষমতা E20 কমে যায়। এছাড়া পলিমাইড ৬৬ উপাদান E20-এর সংস্পর্শে এসে বেশি জ্বালানি শোষণ করে ফুলে ওঠে, ফলে এর আকার পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন যন্ত্রাংশ বদলানো প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে রাবারের অংশ শক্ত হয়ে ফেটে যেতে পারে। যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব কমে যায়। নমনীয়তা হারিয়ে যাওয়ায় সহজে ভেঙে যেতে পারে। ফলে ওঠার কারণে সিলিং ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। জ্বালানি লিক হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
গাড়ির মালিকদের কী করা উচিত?
যাদের BS-111 (২০০৫-২০১৬ সালের মধ্যে তৈরি) গাড়ি রয়েছে, তাদের নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় জ্বালানি ব্যবস্থার রাবার, গ্যাসকেট, হোস ও-রিং এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজন হলে সেগুলি E20 সহনশীল নতুন যন্ত্রাংশ দিয়ে বদলে নেওয়া ভালো।তবে নতুন BS-VI এবং E20 সামঞ্জস্যপূর্ণ গাড়ির ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা হয় না, কারণ সেগুলিতে আগে থেকেই E20-সহনশীল উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
Leave a Comment