ক্ষমতা থাকলে ইমার্জেন্সি জারি করুন: দিপকে

By Suman Debnath

October 15, 2026 9:40 AM

ক্ষমতা থাকলে ইমার্জেন্সি জারি করুন: দিপকে

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরও শক্ত চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল ‘ককরোচ’রা। বুধবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়ে দিলেন, ‘ক্ষমতা থাকলে আপনি সরকারিভাবে ইমার্জেন্সি জারি করুন। এভাবে ভীরু কাপুরুষের মতো ছলেবলে দমনপীড়ন চালাবেন না।’ শুধুমাত্র চ্যালেঞ্জ ছোড়াই নয়। এদিন দিল্লিতে নয়া কর্মসূচিরও ঘোষণা করে দিয়েছেন দিপকে। বলেছেন, ‘১৬ অক্টোবর বিকাল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে লেহরা দো তিরঙ্গা পালন করব আমরা। প্রত্যেকে জাতীয় পতাকা নিয়ে আসুন। এদেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো যদি অপরাধ হয়, তাহলে পুলিশ হয়তো আমাকেও গ্রেপ্তার করবে। যা খুশি করুক। যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তারা নিজের শহরে এই কর্মসূচি পালন করুন।’ সিজেপির তোপ, ইংরেজ আমলে এভাবে তিরঙ্গা ওড়ানোর জন্য জেল হত। মহালয়ায় ‘যন্তরমন্তর ২.০’-এর মাধ্যমে যে মহাআন্দোলন শুরু করেছে জেন জি, ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় দিল্লির ‘ধর্মতলা’ কনট প্লেসে তা সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা পেতে চলেছে।

আরও পড়ুন:  ‘চোখের সামনেই ভেসে গিয়েছে দু’টি বাস’, নেপাল থেকে ফিলে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা জানালেন ২১ ভারতীয়

আর তাই ফের রক্তচাপ বাড়তে শুরু করেছে দিল্লি পুলিশের। মঙ্গলবারই পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে যন্তরমন্তরে প্রবেশ করেছিলেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক সিন্ধেসহ সিজেপির ১৪ জন নেতাকর্মী। বন্দেমাতরম এবং ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দিতে দিতে উড়িয়েছিলেন জাতীয় পতাকা। পুলিশ প্রত্যেককেই আটক করে। পরে গ্রেপ্তার হন সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্ক। বুধবার দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ এবং আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অজিঙ্ককে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। সৌরভকে তিহার জেলের দু’নম্বর এবং আশুতোষকে চার নম্বর সেলে রাখা হয়েছে। তবে এভাবে সিজেপি নেতৃত্বকে জেলে পাঠানোর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিরোধীরা। এই প্রথম সরাসরি ‘ককরোচ’দের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়। এভাবে তরুণদের জেলবন্দি করে কাপুরুষতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক নাগরিক তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছে।’ 
রাহুলের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এম কে স্ট্যালিন, পিনারাই বিজয়ন, সুপ্রিয়া সুলে, আদিত্য থ্যাকারে, কেটিআরের মতো বিরোধী নেতারা ‘ককরোচ’দের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এভাবে গ্রেপ্তারির তীব্র সমালোচনা করেছেন। মমতা বলেছেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের সময় এটা। একটি প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমরা নতিস্বীকার করব না।’ রাহুল, মমতা সহ বিরোধীদের প্রত্যেককে এভাবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন দিপকে। ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি রাহুলের টুইট শেয়ার করে লিখেছেন, ‘একতাই আমাদের শক্তি। দেশ এবং দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে সমস্ত দেশবাসীর এভাবে এককাট্টা থাকা উচিত।’ অর্থাৎ, জেন জি যে আরও বেশি সংঘবদ্ধ হচ্ছে, ক্রমেই তা প্রমাণ মিলছে। সিজেপি নেতৃত্বের বিচারবিভাগীয় হেপাজতের খবর পেতেই এদিন সকালে নাগপুর থেকে দিল্লিগামী বিমান ধরেন দিপকে। বিমানে অনেক যাত্রী তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন। দিল্লি এসেই পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:  দিল্লিতে বন্ধুত্ব, তবু আলাদা প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেস-সিপিএমের

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment