নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে উত্তাল আন্দোলনের পরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা আদায় করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। সেই আন্দোলন প্রত্যাহারের পরপরই কেরালামের আরএসএস-ঘনিষ্ঠ (RSS) মতাদর্শবিদ এবং বিজেপির বুদ্ধিজীবী শাখার প্রাক্তন প্রধান টিজি মোহনদাসের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা দেশে। পত্রিকা নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে তিনি যন্তরমন্তরের (Jantar Mantar) আন্দোলনকারীদের সরাসরি অপরাধী, দেশদ্রোহী তকমায় দাগিয়ে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, আন্দোলনে যোগ দেওয়া মেয়েদের ধর্ষণপ্রেমী বলে অত্যন্ত করুরচিকর মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে যন্তরমন্তরে গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের মেরে ফেলতেন।
কী বলেছেন মোহনদাস
২৬ জুলাই প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় মোহনদাস দাবি করেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে কারফিউ জারি করে তিনবার সতর্ক করার পরে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিতেন। এখানেই থামেননি তিনি। পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে ওই এলাকায় গণধর্ষণ ও খুনখারাপি শুরু হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সঙ্গে জুড়ে দেন অত্যন্ত অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী কিছু কথাও, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিন্দার ঝড় উঠেছে সমাজমাধ্যমে। বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক মানসিকতার মানুষদের নিশানা করেও কটূক্তি করেছেন তিনি। এর আগে ২৪ জুলাইয়ের একটি ভিডিওবার্তায় তিনি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর শারীরিক হামলা চালানোর উসকানি দিয়েছিলেন।
কে এই টিজি মোহনদাস
কেরালামে সুপরিচিত ইউটিউবার মোহনদাস এক সময় বিজেপির বুদ্ধিজীবী শাখার (BJP Intellectual Cell) প্রধান ছিলেন, এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (Rashtriya Swayamsevak Sangh) সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগ রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবেও পরিচিত এই ব্যক্তির আগের একাধিক মন্তব্যও বিতর্ক তৈরি করেছিল বলে জানা যাচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত পদক্ষেপ
মোহনদাসের এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরে এখনও পর্যন্ত সরকার বা বিজেপির তরফে আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানানো হয়নি। তবে নেটপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ককরোচ পার্টি ইতিমধ্যেই অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে চরমসীমা বেঁধে দিয়েছে। এই আবহে নারীবিদ্বেষী ও হিংসা প্ররোচনামূলক মন্তব্য গোটা আন্দোলন পরিস্থিতিকেই আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। তাঁদের অভিমত, এখনই কোনও সদর্থক পদক্ষেপ না করলে ফের নতুন করে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে দাবানলের মতো।
Leave a Comment