ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে ঘিরে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বাধতে শুরু করেছে। এবার সুরাটের এক আরটিআই কর্মী অভিজিতের বাবার আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি অভিজিতের বাবার আর্থিক উৎসের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে সিজেপির আইনি অনুযায়ী নথিভুক্তিকরণ সব বিষয় ও তহবিল সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।
আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারির অভিযোগ, অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে অবসরের পরে ছেলেকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা করার খরচ জুগিয়েছিলেন সেই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে অমিত তিওয়ারি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তাঁর আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য সিজেপি যে লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড গঠনের ঘোষণা করেছে, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে তিওয়ারি। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছেন, ককরোচ জনতা পার্টি আদৌ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারার অধীনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কি না। তাঁর দাবি, দলটি যদি নিবন্ধিত না হয়, তবে রাজনৈতিক দলের নামে কার্যাকলাপ পরিচালনা ও অর্থ সংগ্রহ বা গ্রহণের বৈধতা খতিয়ে দেখা উচিত।
অন্যদিকে, তিওয়ারি কেন্দ্রীয় জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সিজেপির আইনি সহায়তা তহবিলে ১ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সেই অর্থের উপরে ১৮ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য।
আরও পড়ুন: নিট আন্দোলনের জেরে জনপ্রিয়তা, অভিজিৎ দীপকের জন্য আসছে ভুরি ভুরি বিয়ের প্রস্তাব
উল্লেখ্য, কপিল সিব্বল সোমবার জানিয়েছিলেন, দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি লড়াইয়ের জন্য গঠিত সিজেপির লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ডে তিনি ১ কোটি টাকা অনুদান দেবেন। এদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিজিৎ দীপকে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বাড়ির নিচে অপেক্ষারত কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা করতে এসে তিনি অসুস্থবোধ করেন। পরে বমি করে কোনও মন্তব্য না করেই বাড়ির ভিতরে ফিরে যান।
Leave a Comment