কনটেনার ট্রেন চালানোর নিয়মে বড়সড় বদল আনল ভারতীয় রেল। এবার থেকে দেশের যে কোনও রুটে কনটেনার ট্রেন চালাতে আলাদা আলাদা লাইসেন্স লাগবে না। একটি ‘অল ইন্ডিয়া লাইসেন্স’ থাকলেই চলবে। সেই সঙ্গে লাইসেন্সের ফি ও নবীকরণের নিয়মও অনেক সহজ করা হয়েছে। রেলের আশা, এতে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়বে। অন্যদিকে, পণ্য পরিবহণের খরচ কমবে এবং শিল্প-বাণিজ্য আরও গতি পাবে।
এতদিন কনটেনার ট্রেন চালাতে বিভিন্ন রুটের জন্য আলাদা করে অনুমতি নিতে হত ও ফি দিতে হত। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এবার থেকে দেশের সব রুটে পরিষেবা চালানোর জন্য একটিই লাইসেন্স মিলবে। তার জন্য এককালীন ২৫ কোটি টাকা নিবন্ধন ফি দিতে হবে। এই টাকা ফেরতযোগ্য নয়।
সেই সঙ্গে আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত হল, লাইসেন্সের ২০ বছরের মেয়াদ শেষ হলেও সন্তোষজনক পরিষেবা থাকলে আরও ২০ বছরের জন্য তা বাড়ানো যাবে। তার জন্য কোনও নবীকরণ ফি দিতে হবে না। ভবিষ্যতেও মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না।
বর্তমান লাইসেন্সধারীদের জন্যও কিছুটা ছাড় রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ অপারেটররা পুরনো নিয়মেই মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা চালাতে পারবেন। পরে নতুন সিস্টেমে এলে তাঁদের কোনও ফি দিতে হবে না। ক্যাটাগরি-২, ৩ ও ৪-এর অপারেটরদের নতুন লাইসেন্স নিতে ১৫ কোটি টাকা দিতে হবে। চাইলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁরা নতুন ব্যবস্থায় যোগ দিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম স্বস্তি অভিষেকের আপ্তসহায়কের, পরের শুনানি পর্যন্ত গ্রেপ্তার নয় সুমিতকে
রেলের মতে, এই সংস্কারের ফলে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। এর জেরে আরও বেশি কনটেনার ট্রেন রেলপথে চলবে। এতে শিল্প সংস্থাগুলি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের পরিবহণ খরচ কমবে। পাশাপাশি সড়কের উপর চাপও কমবে। যানজট, জ্বালানি খরচ এবং কার্বন নিঃসরণ, তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে রেল। রেলের দাবি, সহজ ও অভিন্ন লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু হলে দেশের মালবাহী রেল পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও আরও অনুকূল হবে।
Leave a Comment