---Advertisement---

অযোধ্যার রামমন্দিরের পর সিদ্ধিবিনায়ক! দানবাক্স থেকে গায়েব বছরে ১৮ কোটি টাকা, তলব রিপোর্ট

By Suman Debnath

August 4, 2026 1:10 PM

অযোধ্যার রামমন্দিরের পর সিদ্ধিবিনায়ক! দানবাক্স থেকে গায়েব বছরে ১৮ কোটি টাকা, তলব রিপোর্ট

---Advertisement---


অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের ঘটনা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড়। এরই মধ্যে খবরের শিরোনামে উঠে এল মুম্বইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিবিনায়ক গণপতি মন্দির। এবার এই মন্দিরের দানবাক্স থেকে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল। মহারাষ্ট্রের নবনির্মাণ সেনাপ্রধান রাজ ঠাকরে একটি জনসভায় মন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। তাঁর সেই অভিযোগের পরে মহারাষ্ট্র সরকারের আইন ও বিচারবিভাগ মন্দির ট্রাস্টের কাছে এই নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে।

রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির অভিযোগে কয়েকজন কর্মীকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই গ্রেপ্তারির পর মন্দিরে সাপ্তাহিক অনুদানের পরিমাণ হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আগে প্রতি সপ্তাহে দানবাক্স থেকে ৫০ লক্ষ টাকারও কম অর্থ সংগ্রহ হত। কিন্তু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির পর থেকে পরবর্তী ৩ সপ্তাহে প্রতি বুধবার সেই সংগ্রহের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১.৫ কোটি টাকায়। তাঁর অভিযোগ, সংগ্রহের পরিমাণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রমাণ করে এতদিন দানবাক্সের অর্থ গণনার আগে বড় অংশ আত্মসাৎ করা হচ্ছিল। সেই হিসাবে বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

আরও পড়ুন:  বিক্ষোভে 'পুলিশি বর্বরতা': আটক পড়ুয়াদের অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, গড়া হবে SIT

রাজ ঠাকরে বলেন, ‘এখন তো মন্দিরও দুর্নীতির হাত থেকে নিরাপদ নয়।’ এর আগে ট্রাস্টের আটজন ট্রাস্টি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে চিঠি লিখে এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা সেই টিঠিতে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় শুধু নিম্নস্তরের কর্মচারীরাই নয়, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাঁদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাস্টি অতুল লোধে, ভাস্কর রাউত, মহেশ মুরলিধর, জিতেন্দ্র রাউত, মীনা কাম্বলে, মঙ্গলা তুপে, গোপাল দালভি এবং সুদর্শন সাংগলে। তাঁদের দাবি, গত দেড় বছরে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মন্দিরের আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।

এদিকে, রাজ ঠাকরে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির থেকে অনুদান চুরির ঘটনার পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দির থেকে ১,৪০০ কোটি টাকা চুরির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপের দাবি তোলেন। অন্যদিকে, সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সদা সর্বঙ্কর জানিয়েছেন, দানবাক্সের অর্থ চুরির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৯ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:  পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতেই বিপত্তি! ‘প্রোটেক্টেড’ হয়ে গেল অরিজিতের এক্স অ্যাকাউন্ট

সদা সর্বঙ্করের মতে, দান বৃদ্ধির পিছনে শুধু চুরি বন্ধ হওয়াই নয়, ট্রাস্টের নেওয়া একাধিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কারও বড় কারণ। তাঁর দাবি, দুই বছর আগে যেখানে মন্দিরের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১১৪ কোটি টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অযোধ্যার রামমন্দিরে দান কেলেঙ্কারির ঘটনার মধ্যে সিদ্ধিবিনায়ক গণপতি মন্দিরে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতে ফের নতুন করে বিতর্ক দানা বাধতে শুরু করেছে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment