সোমবার ভোরে বিহারের সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনে সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগে। তিনটি বগি পুড়ে গেলেও যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সোমবার ভোরে বিহারের সহর্সা জেলায় বড়সড় ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানো গেল অল্পের জন্য। সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে আচমকা আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে তা তিনটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশন (Simri Bakhtiyarpur Railway Station)-এ। রেলকর্মীদের দ্রুত তৎপরতায় যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে। ঘটনার জেরে কয়েক ঘণ্টার জন্য রেল পরিষেবা ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার ভোর প্রায় ৩টা ২৫ মিনিটে সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে। সেই সময় ট্রেনের মাঝের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং দ্রুত পিছনের বগিগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে।
রেল সূত্রের খবর, সেই সময় ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত প্রত্যেক যাত্রীকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। তাঁদের এই তৎপরতার ফলেই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও আগুনের তীব্রতায় ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরিয়ে লাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়। সকাল ৬টা থেকে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে রেলের অনুমান, ইঞ্জিনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ইঞ্জিনে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলেছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহর্সা-পাটনা কোশী এক্সপ্রেস, মণিহারি-জয়নগর জানকী এক্সপ্রেস, সহর্সা-সমস্তিপুর প্যাসেঞ্জার এবং সহর্সা-দেওঘর শ্রাবণী স্পেশাল-সহ একাধিক ট্রেন সাময়িকভাবে প্রভাবিত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়।
এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও ভোররাতের এই অগ্নিকাণ্ড আবারও ট্রেনের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রেল কর্তৃপক্ষের।
Leave a Comment