---Advertisement---

বাংলায় মমতার সঙ্গে কোনও আপস নয়, তৃণমূল-বিজেপি দু’দলের বিরুদ্ধেই লড়াই: সেলিম

By Suman Debnath

September 26, 2026 9:10 PM

বাংলায় মমতার সঙ্গে কোনও আপস নয়, তৃণমূল-বিজেপি দু’দলের বিরুদ্ধেই লড়াই: সেলিম

---Advertisement---


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট ইস্যুতে সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ইস্যুতে চিঠিও লিখেছেন। ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের আরও বেশি সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কি বিজেপিকে সরাতে সিপিএম-কালীঘাট তৃণমূল কাছাকাছি আসছে? রাজ্যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সঙ্গে কি মমতার ‘সাপে-নেউলে’ সম্পর্ক কি শেষ হচ্ছে? তবে সেই প্রসঙ্গ মানতে নারাজ সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। দিল্লিতে একজোট হলেও বাংলায় মমতার বিপক্ষেই তাঁরা রয়েছেন। এমনই প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক আপস নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অবস্থান থেকে সরছে না সিপিএম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে— ফের একবার সেই বার্তাই দিলেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্বের অন্যতম মুখ মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় তৃণমূল ও বিজেপি— দুই দলের বিরুদ্ধেই বামপন্থীদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

বাংলায় বিজেপির উত্থানের পিছনে তৃণমূলের ভূমিকা রয়েছে— এই পুরনো অভিযোগও ফের সামনে এনেছেন সেলিম। তাঁর দাবি, অতীতে বামেদের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই জোটের হাত ধরেই বাংলায় বিজেপি প্রথম রাজনৈতিক জমি তৈরি করার সুযোগ পেয়েছিল। ফলে আজ বিজেপির বিরোধিতার প্রশ্নে তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের কোনও সমঝোতার প্রশ্ন নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন তিনি।

জাতীয় রাজনীতিতে অবশ্য ছবিটা কিছুটা আলাদা। দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে গঠিত বিরোধী জোটে তৃণমূল ও সিপিএম— দুই দলই রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানো এবং রাজনৈতিকভাবে একাধিক ধাক্কা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও সেই জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। এই ‘দোস্তি’ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি নেতৃত্ব বাম ও তৃণমূলকে নিশানা করে এসেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কি বদলাবে তৃণমূল-বাম সমীকরণ? বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একাধিকবার বিজেপি বিরোধিতায় বামেদের সঙ্গে সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট— বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা নয়।

এর মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। ফলে দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূল ও বামেদের সমন্বয় কি এবার বাংলার রাজনীতিতেও কোনও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে।

তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর বার্তা, দিল্লিতে কোনও নির্দিষ্ট ইস্যুতে যৌথ অবস্থান নেওয়া আর বাংলায় রাজনৈতিক জোট— এক বিষয় নয়। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের লড়াই চলবেই। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে বামেরা।

সেলিমের কথায়, বাংলায় তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শক্তির বিরুদ্ধেই ধর্মনিরপেক্ষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করাই বামেদের লক্ষ্য। ফলে জাতীয় স্তরে সমন্বয় থাকলেও বাংলার মাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও আপসের রাস্তা খুলছে না— সাফ করে দিলেন সিপিএম নেতা।

 

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment