---Advertisement---

ইয়ামিন হত্যা: ১৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

By Suman Debnath

July 26, 2026 2:20 PM

ইয়ামিন হত্যা: ১৯ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

---Advertisement---


জুলাই গণআন্দোলনের সময় সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শিক্ষার্থী আসহাবুল ইয়ামিন নিহতের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।


রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত সংস্থার দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রস্তুত করা তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। একই দিনে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে শুনানির জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।



প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, মামলার সাতজন অভিযুক্ত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং কনস্টেবল মাসুদ মিয়া।

আরও পড়ুন:  আমি দুঃখিত, তবে হৃদয় দিয়ে খেলেছি: মেসি


এছাড়া মামলার অন্য যেসব আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও ট্রাইব্যুনালে করা হয়েছে।



মামলার নথি অনুযায়ী, আসহাবুল ইয়ামিন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আন্দোলনের একপর্যায়ে ইয়ামিনকে আটক করে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের (এপিসি) কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বুকে গুলি করা হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলির আঘাতে তার শরীরে একাধিক স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।



তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে পরে সাঁজোয়া যানের ওপর রাখা হয় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে গাড়িটি ঘোরানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রাখা হয়।

আরও পড়ুন:  হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, তখনও ইয়ামিনের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। অভিযোগ গ্রহণ, আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আদেশ এবং বিচার শুরুর বিষয়ে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।


দেশজুড়ে আলোচিত এই মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের কার্যক্রমের দিকে এখন নজর রয়েছে আইনজীবী, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল এবং সাধারণ মানুষের।


আমার বাঙলা/ রাব্বি





---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment