ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী পরামর্শের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সৌদি আরব দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জানা গেছে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। রিয়াদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই তারা দ্রুত যুদ্ধের অবসান চায়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কূটনৈতিক আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সহিংসতা অব্যাহত থাকায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বিগ্ন দলটির নেতারা। সাম্প্রতিক এক সিএনএন জরিপে দেখা গেছে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ২৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
এদিকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, শুধু বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জামও ধীরে ধীরে কমে আসছে। বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রভাব বাড়ায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জেরার্ড কুশনার আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদী, তবে ইরানের বহুমুখী নেতৃত্বের কারণে স্থায়ী সমাধান এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে একটি স্বল্পমেয়াদি সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: সিএনএন
আমার বাঙলা/ তালহা
Leave a Comment