ইবোলার ভয়াল থাবায় কঙ্গো, মৃত ১,৩০৯, মাত্র ৫ দিনে সংক্রমণ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি

By Suman Debnath

July 26, 2026 5:55 PM

ইবোলার ভয়াল থাবায় কঙ্গো, মৃত ১,৩০৯, মাত্র ৫ দিনে সংক্রমণ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি


আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো বা ডিআর কঙ্গোতে ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে সংক্রমণ ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ইবোলা এখন কঙ্গোয় ‘দাবানলের মতো’ ছড়িয়ে পড়ছে।

শনিবার কঙ্গো সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৯৭৩ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দ্রুত গতিতে সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা কঙ্গোয় আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে।

বর্তমানে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে ইবোলার ‘বুনদিবুগিও’ ভ্যারিয়েন্ট। মানবদেহে শনাক্ত হওয়া ৪ ধরনের ইবোলা ভাইরাসের মধ্যে এটি বিরল। তবে এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় রোগ নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:  রুশ তেল কেনায় কড়া বার্তা! ভারতের উপর ১০০% শুল্কের প্রস্তাব, মার্কিন সেনেটে নতুন বিল

তবে আশার খবরও মিলেছে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে একটি পরীক্ষামূলক টিকা তৈরি করেছে। ইতিমধ্যেই প্রথম স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে সেই টিকার ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষকদের আশা, সফল হলে ভবিষ্যতে এই টিকা বুনদিবুগিও ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, শরীরের তরল ও দূষিত সামগ্রীর সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়ে। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, তীব্র দুর্বলতা, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া এবং পরিস্থিতি গুরুতর দিকে গড়ালে অনেক ক্ষেত্রে দেহের ভিতরে বা বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাব ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ। তখন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন-সহ একাধিক দেশে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার কঙ্গোয় সংক্রমণের গতি আগের তুলনায় আরও দ্রুত, যা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন:  টেস্ট টিউব ভাঙার পর তরুণীর মৃত্যু, সাইবেরিয়ায় প্লেগ-আতঙ্কে প্রায় ২০০ জন কোয়ারান্টিনে  

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment