কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi)। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তাঁকে অন্তর্বর্তী শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে জোশী জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন। পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
বর্তমানে কেন্দ্রের উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা প্রহ্লাদ জোশীর হাতে শনিবার অতিরিক্তভাবে শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে বলেও জানান তিনি।
নিজের প্রথম বিবৃতিতে প্রহ্লাদ জোশী বলেন, এই দায়িত্ব তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
একই সঙ্গে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, গত এক দশকের বেশি সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) কার্যকর করার ক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে নিজের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠান ধর্মেন্দ্র প্রধান। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ এবং স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁর কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কোনও সময় নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু দেশবিরোধী শক্তি পরিস্থিতিকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। সেই পরিস্থিতিতে কোনওরকম রাজনৈতিক সুবিধা যাতে কেউ নিতে না পারে, সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে রাষ্ট্রপতি তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেন।
সূত্রের খবর, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জরুরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব কার হাতে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Naveen)-এর সঙ্গেও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হয়।
দলীয় সূত্রের দাবি, আপাতত অভিজ্ঞ ও নেতৃত্বের আস্থাভাজন প্রহ্লাদ জোশীকেই শিক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভার বিস্তৃত রদবদলের সময় পূর্ণকালীন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে। তবে সেই বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
Leave a Comment