বকেয়া ডিএ মেটাতে ১৫% ছাড় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য। প্রথম কিস্তিতে ৭,৭৭১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ শোধের পরিকল্পনা।
কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ ছিল— ১০০ শতাংশই দিতে হবে। কিন্তু বুধবার শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়ে দিল, পুরো টাকা মেটানো সম্ভব নয়। ৮৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে বাকি ১৫ শতাংশে ছাড় চেয়েছে তারা। চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে বকেয়া টাকা শোধের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি রয়েছে।
রাজ্য জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিতে হবে। প্রথম কিস্তির ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে, তৃতীয় কিস্তি জুলাইতে এবং চতুর্থ ও শেষ কিস্তি দেওয়া হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে।
সরকারের দাবি, ২০০৮-২০১৫ এবং ২০১৬-২০১৯— এই দুই ভাগে ভাগ করে বকেয়া মেটানো হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। প্রত্যেক কর্মীর ১৪১ মাসের বকেয়া হিসাব করতে হচ্ছে। ৯০টি ট্রেজারির তথ্য একত্রিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো অনুযায়ী পৃথক গণনার কাজ চলছে। ২০১৬ সালের আগের কর্মীদের বেতনের তথ্য ডিজিটাল নয়, খাতায় নথিভুক্ত থাকায় সেগুলিকে ডিজিটাল মাধ্যমে আনতে নতুন পোর্টাল খুলতে হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মীর জন্য ই-সার্ভিস বুক করতেও বাড়তি সময় লাগছে।
এই বিপুল কাজ ও খরচের বোঝার কথা উল্লেখ করে রাজ্য বলেছে, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ডিএ দেওয়া হয়, কিন্তু ১০০ শতাংশই দিতে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। পাশাপাশি জিএসটি (GST) থেকে রাজ্যের আয় কমেছে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল খরচ হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তাই আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখে বকেয়ায় ১৫ শতাংশ ছাড়ের আর্জি বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim) জানিয়েছেন, রাজ্য ছাড় চাইতেই পারে, কিন্তু তাঁদের দাবি ১০০ শতাংশ বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হোক। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সেই অবস্থানই স্পষ্ট করা হবে।
Leave a Comment