---Advertisement---

ছাত্রদল নেতাদের কৌশলে নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল চোর আটক  | Amar Bangla BANGLADESH

By Suman Debnath

July 22, 2026 3:25 PM

ছাত্রদল নেতাদের কৌশলে নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল চোর আটক  | Amar Bangla BANGLADESH

---Advertisement---


নোয়াখালী সদর উপজেলায় চোরকে বুদ্ধির ফাঁদে ফেলে দুইটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন ছাত্রদলের দুই নেতা ও তাদের বন্ধুরা। পরে দুই চোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।


এ দুই ছাত্রনেতা হলেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল পাটোয়ারী ফারহান ও ইমদাদ উল্যাহ পরশ। তারা স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। অপরদিকে,আটকরা হলেন, দক্ষিণ হাতিয়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরলিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। পুলিশ বলছে, তারা আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।


জানা গেছে, গত ১২ জুলাই রাতে নোয়াখালী জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এর আগে গত ১৯ মে সকাল ১০টায় নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর সুপার মার্কেটের সামনে থেকে চুরি হয় ছাত্রদল নেতা ফারহান ও পরশের বন্ধু জয়দেব নাথের মোটরসাইকেল। এ ঘটনার পরদিন অচেনা একটি মোবাইল নম্বর থেকে বাইকার পরিচয়ে এক ব্যক্তি জয়দেবের ফোনে কল দেন। জয়দেবের মোটরসাইকেলটি তার কাছে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।


তবে, মোটরসাইকেলের সাথে থাকা কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হলে তিনি মোটরসাইকেলটি না কিনে জয়দেবকে কল দিয়েছেন বলেও জানান। মোবেইলে কথাবার্তা এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি জয়দেবকে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে সেখানে ১০ হাজার টাকা পাঠালে তার মোটরসাইকেলটি ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে টাকা পাওয়ার পরও মোটরসাইকেল ফেরত দিতে গড়িমসি করেন ওই ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ফোনে বার বার কল দিয়েও ওেই ব্যক্তির কাছ থেকে কোন সাড়া মিলছিল না। এরপর ১৪ জুলাই ছাত্রদল নেতা ফারহান ও পরশের বুদ্ধিতে অন্য একটি মোবাইল ফোন থেকে ওই ব্যক্তির ফোনে কল দেওয়া হয়। তিনি কল রিসিভ করে কিছুক্ষণ কথা বলার পর সন্দেহ হলে ফোন কেটে দেন। পরদিন রাত ৮টার দিকে অন্য আরেকটি নম্বর থেকে আবারও কল দেওয়া হয় তাকে। এ সময় নিজের পরিচিত বন্ধু ভেবে কল রিসিভ করে তিনি মাইজদীতে নতুন বাসস্ট্যান্ড (যেখান থেকে আবু নাছের মঞ্জুর মোটরসাইকেল চুরি হয়েছিল সেখানে) আছেন বলে জানান।

আরও পড়ুন:  ট্রল করে লাভ নেই, দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করে যাব: শিক্ষামন্ত্রী


ছাত্রদল নেতারা জানান, এ তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা ফারহান, পরশ, ইমন ও তাদের বন্ধু জয়দেব। এবার জয়দেব ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে গল্প শুরু করেন। এক পর্যায়ে দুজন পাশের রেস্তোরাঁয় চা পান করতে যান। পিছু পিছু ফারহান, পরশ ও ইমনও সেখানে যান। এ সময় সন্দেহ হলে চতুর ওই ব্যক্তি উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে তাকে ঘিরে ধরেন চার বন্ধু। এরপর সোনাপুর থেকে জয়দেবের মোটরসাইকেল চুরির সময় সিসি টিভি ফুটেজে ওই ব্যক্তির উপস্থিতি এবং পরে বিকাশে টাকা নেওয়ার কথা বলা হলে ঘাবড়ে যান তিনি। এ সময় বাঁচার জন্য আরেকজনের নাম বলেন ওই ব্যক্তি। মূল চোরকে এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন চার বন্ধু। পরে চোর চক্রের অপর সদস্যকে ওই ব্যক্তি মোবাইলে কল দিয়ে তার কাছে ভাড়ার টাকা নেই, তাকে কিছু টাকা দিয়ে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একটি মোটরসাইকেলে চোর চক্রের অপর সদস্য একটু সামনে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই ব্যক্তিকে টাকা দিতে আসে। এ সময় দুজনকে আটক করে সোনাপুর নিয়ে যায় চার বন্ধু। সাথে নিয়ে আসা মোটরসাইকেলটি চট্রগ্রাম থেকে তাদের এব বন্ধু বিক্রির জন্য পাঠিয়েছে বলে জানায় তারা।

আরও পড়ুন:  সমুদ্রপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্রের চালান, সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র


নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো.ফারহান বলেন, একটি মোটরসাইকেলের পেছনে নোয়াখালী হোন্ডা গ্যালারির কাগজ দেখে সন্দেহ হয় চার বন্ধুর। পরে হোন্ডা গ্যালারিতে ফোন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মোটরসাইকেলটির সেল রিসিট সংগ্রহ করেন তারা। সেল রিসিটে মোটরসাইকেলটির ক্রেতা আবু নাছের মঞ্জুর নাম ও মোবাইল নম্বর পাওয়ার পর তাকে ফোন দিয়ে পুরো ঘটনা জানান চার বন্ধু। তাৎক্ষণিক তিনি (মঞ্জু) বিষয়টি সুধারাম মডেল থানার এসআই ফখরুল ইসলামকে অবহিত করেন মঞ্জু। পরে মঞ্জুকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এসআই ফখরুল। এ সময় দুই চোরের পরিচয় নিশ্চিত করেন এসআই ফখরুল।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও জাহাঙ্গীর আন্তঃজেলা মোটরকাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। ফয়সালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১১টি এবং জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এক জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরির পর অন্য জেলায় পাচার করে আসছে। তারা নোয়াখালী থেকে গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় দয়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে গত শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


আমার বাঙলা/ জামান

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment