তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার : পৌষ সংক্রান্তির মতো এক ঐতিহ্যবাহী লোকউৎসবকে ঘিরে যেখানে আনন্দ, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির আবহ থাকার কথা—সেখানেই চরম অব্যবস্থা, অবহেলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীনতায় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এল তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট পৌষ সংক্রান্তি মেলা।
এবছরের মেলায় সবচেয়ে গুরুতর ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়—তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় এবং কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীকে ইচ্ছাকৃতভাবে আমন্ত্রণ না জানানো। মেলার ফ্লেক্স ও নিমন্ত্রণপত্রে তাঁদের নাম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, যা শুধুমাত্র শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়—বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— একটি সরকারি অর্থে পরিচালিত জনউৎসবে এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করার সাহস কারা পেল?
এই সিদ্ধান্ত কি নিছক ‘ভুল’, নাকি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সংকীর্ণতার বহিঃপ্রকাশ?
এখানেই শেষ নয়। মেলার আয়োজন জুড়ে দেখা গেছে একের পর এক চরম অব্যবস্থা। মেলায় আগত বহু দোকানদারকে দোকান খুলতে বাধা দেয় মেলা কমিটি ও পুলিশ। ক্ষোভে ফেটে পড়ে ব্যবসায়ীরা। ২০ বছর ধরে মেলায় ব্যবসা করা এক দোকানদারের স্পষ্ট অভিযোগ— “আমি আর কোনওদিন এই মেলায় আসব না। গরীবের পেটে ভাত দেওয়ার বদলে এখানে পেটে লাথি মারা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই মেলা যদি বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর এলাকায় হতো, তবে এমন অবমাননা ও বিশৃঙ্খলা কখনওই হতো না।
অন্যদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চরম হাস্যকর পরিস্থিতি— মঞ্চে অতিথি ছিলেন ২১ জন, অথচ দর্শক সংখ্যা কোনওক্রমে ৪০ জন ছুঁয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে মঞ্চের সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে থাকা যেন আয়োজনের ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী। তাছাড়া, এই মেলা কে ঘিরে মেলা প্রাঙ্গনেই অন্ধকার নীরব স্থান কে হাতিয়ার করেই রমরমিয়ে চলছিল অবৈধ জুয়ার আসর। যার মধ্য থেকে একাধিক জুয়াড়ি এবং জুয়া সামগ্ৰী আটক করে তেলিয়ামুড়া থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন মহলের একটাই প্রশ্ন, প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মহুকুমা ভিত্তিক এই মেলায় কে বা কাদের মদতে এইধরনের অবৈধ জুয়ার আসর রমরমিয়ে চলছিল?
সবচেয়ে লজ্জাজনক চিত্র— পুরোহিত ও নাপিতদের জন্য কোনও ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের খোলা আকাশের নিচে বসেই ধর্মীয় আচার ও কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। একটি ‘সংস্কৃতিমূলক মেলা’র ক্ষেত্রে এমন অমানবিক অবহেলা সভ্য সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন— মেলার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ গেল কোথায়? কে বা কারা এই চরম অব্যবস্থার দায় নেবে? দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির বিরুদ্ধে কি কোনও তদন্ত হবে?
মেলার উদ্বোধক ও রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা আগামী বছর থেকে মেলা দুই দিনব্যাপী করার আশ্বাস দিলেও, স্থানীয়দের একাংশের সাফ বক্তব্য— স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা না থাকলে দিন বাড়ালেও মেলার মান বাড়বে না—বরং বিশৃঙ্খলাই বাড়বে।
সব মিলিয়ে, চাকমাঘাটের পৌষ সংক্রান্তি মেলা এবছর আনন্দ ও ঐতিহ্যের প্রতীক না হয়ে উঠল—- অব্যবস্থা, রাজনৈতিক অবজ্ঞা ও জনআস্থার ভাঙনের প্রতিচ্ছবি।
উৎসবের নামে বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হলে, তার দায় আয়োজক ও প্রশাসনকেই নিতে হবে—এটাই এখন চাকমাঘাটের সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি।
মহুকুমা ভিত্তিক মেলায়, মহুকুমার ২ বিধায়ক পায়নি নিমন্ত্রন! অব্যবস্থায় কলুষিত চাকমাঘাটের পৌষ সংক্রান্তি মেলা!
By Mrinmoy Roy
Published on: January 14, 2026
Follow Us

---Advertisement---

Journalist







Leave a Comment