তৃণমূল কংগ্রেসে দলবদল ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাঘ’ বলে উল্লেখ করার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, বাঘ নয়, সম্ভবত ‘বাঘরোল’ বলতে চেয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্তের বেরিয়ে আসার ঘোষণা এবং তাপস চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঋতব্রত দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই জেলায় যেমন বাঘ রয়েছে, তেমনই বাঘরোলও দেখা যায়। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী অভিষেককে ‘বাঘ’ বলতে গিয়ে আসলে ‘বাঘরোল’-এর কথাই বলতে চেয়েছিলেন। সেই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মমতার বক্তব্যকেই ব্যঙ্গ করেন।
এরপরই ডিম ছোড়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে সামনে এনে আরও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, বাঘ ডিম খায় না, কিন্তু বাঘরোল বা ভামবিড়াল ডিম চুরি করে খাওয়ার জন্য পরিচিত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক ডিম নিক্ষেপ বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ঋতব্রত তাঁর বক্তব্যে কোথাও অভিষেকের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি। তবে সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলার শুনানিতে অভিষেক আদালতে জানিয়েছিলেন, তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে প্রস্তুত, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যাতে তাঁর দিকে কেউ ডিম না ছোড়ে। সেই প্রসঙ্গকে ঘিরেই বিরোধী দলনেতার এই রাজনৈতিক কটাক্ষ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঋতব্রত আরও দাবি করেন, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলি যদি ভবিষ্যতে প্রমাণিত হয়, তাহলে অন্য অর্থেই ‘বাঘ’ বলা যেতে পারে। যদিও অভিযোগগুলির বিচারাধীন অবস্থার কারণে এ বিষয়ে কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনাও আরও জোরালো হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কাজের প্রশংসাও করেছেন তিনি। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে পারেন।
অন্যদিকে, রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়কেও একই রাজনৈতিক শিবিরের দিকে এগোতে দেখা যাচ্ছে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁকে সাংগঠনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
একের পর এক দলত্যাগের আবহে বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্য, দল ছেড়ে কেউ চলে গেলে তাতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। বরং যাঁদের যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা যেন ২১ জুলাইয়ের আগেই সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে তিনি নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার বার্তাও দিয়েছেন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী কয়েকদিন যে আরও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Leave a Comment