বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। ২০ জন লোকসভার সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। ৬০ জন বিধায়ক নিজেদের আসল তৃণমূল বলে আলাদা হয়ে গিয়েছে। তারপর তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা আবার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় যাবেন। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপির দিকে গিয়েছেন। মণীশ গুপ্তও একুশে জুলাই সমাবেশের আগে দল ছেড়ে দিলেন। এই আবহে আর যাঁদের যাওয়ার আছে একুশে জুলাইয়ের আগে চলে যেতে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ভিডিও বার্তা দিয়ে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন তৃণমূলনেত্রী।
এদিকে কেষ্ট, মদন, ববি, অরূপ আগেই ভিড়েছেন ঋতব্রত গোষ্ঠীতে। যাঁরাই শিবির বদল করেছেন তাঁরাই কাঠগড়ায় তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একে একে সবাই যখন সরে যাচ্ছেন তখন ফেসবুক লাইভে এসে কড়া বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি ডেডলাইন দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘যাঁদের যাওয়ার, দয়া করে ২১ জুলাইয়ের আগে ওঁদের সঙ্গে নাম লেখান। কিন্তু কোনও দিনই ভাববেন না, দলটাকে কলঙ্কিত করে আপনারা নিজেদের সম্মানিত করছেন। পরিবার বাঁচান, পরিবারকে তো বাঁচানোর দরকার। কারণ আপনাদের পরিবার, সম্পত্তি, লাগেজ, ব্যাগেজ আছে বলেই তো বিজেপির প্যাকেজ।’
অন্যদিকে একদিন আগেই নতুন করে শুরু করার কথা বলেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। তবে সেই নতুন শুরুর পথটা বলেননি। আর বৃহস্পতিবার ফেসবুকে লাইভে এসে শুরুতেই রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানান তৃণমূলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে বলেন, ‘খুব ভাল শিল্পী। তাঁকে আমি সম্মান করি। বিজেপির কোনও এক নেতার সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগ করতে গিয়েছেন। সবার জানার জন্য বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই যে আজ সশরীরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যেখানে বিজেপির নেতারা দাঁড়িয়ে বলে নামও রাখব না, নিশানাও রাখব না। অনেক দলই বহুবার প্রতীক বদলেছে, নাম বদলেছে। কিন্তু আদর্শ, লক্ষ্য, দিশা, কর্মসূচি, এসব কোনও ক্ষমতার জোরে শেষ করা যায় না।’
তাছাড়া একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ এবার হবে বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে। কলকাতা হাইকোর্ট তেমনই নির্দেশ দিয়েছে। এখানে আসতে যাতে কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ না পারেন তার জন্য এখন থেকেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, ‘আমি জানি পুলিশ অনেক জায়গায় বলছে, যাবেন না, আটকে দেব। আমি প্রশাসনকে বলব, আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন। একপক্ষ হয়ে কাজ করতে যাবেন না। জীবন অনেক বড়। দিল্লি টলমল হলে এখানেও ঢলমল হয়ে যাবে। আর যারা আজ চলে যাচ্ছে, তারাও কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। কেউ ভয় সহ্য করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথানত করে চলতে শিখিনি। যাঁরা গিয়েছেন, ভাল করেছেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনাদের পরিবার ভালো থাকুক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা হবে। তাতে কে আসল, কে গেল, আমার যায় আসে না। আমরা যাঁরা থাকব, তাঁরাই স্বর্ণখনি। তাঁরা আগামী দিন নতুন করে পথ চলা শুরু করবেন।’
Leave a Comment