বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১-০ এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল খেয়ে হেরে ফের ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ। ১৯৬৬-র পর এই প্রথম ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার। স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল। কিন্তু তাতেও তাঁর চাকরি নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই। বরং জার্মান কোচের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
ডেইলি মেল-এ দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও টুখেলকে সরানোর কোনও পরিকল্পনা নেই এফএ-র। বরং ইউরো ২০২৮ পর্যন্ত তাঁকেই দায়িত্বে রাখতে বদ্ধপরিকর ইংল্যান্ডের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
সেমিফাইনালে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে এগিয়ে থাকার পর দলের রক্ষণাত্মক কৌশল এবং টুখেলের পরিবর্তনগুলি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম এবং প্রাক্তন ফুটবলারদের একাংশের মতে, অতিরিক্ত রক্ষণে চলে যাওয়াই সর্বনাশ ডেকে আনে।
তবে ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন টুখেল। তাঁর বক্তব্য, দল ম্যাচের শেষ দিকে প্রয়োজনীয় তীব্রতা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, পরিবর্ত খেলোয়াড়রা প্রত্যাশামতো কার্যকরী হয়ে ওঠেননি। তবে এই হারের সঙ্গে অতীতের ব্যর্থতা বা কোনও তথাকথিত ‘ইংল্যান্ডের অভিশাপ’-এর যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জার্মান কোচ।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনও কোচের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মতে, দলের লক্ষ্য ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে দ্বিতীয় গোল করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি ফুটবলাররা। ফলে আবারও বড় টুর্নামেন্টের শেষ চার থেকে বিদায় নিতে হল থ্রি লায়ন্সদের।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলেও এফএ মনে করছে, টুখেলের নেতৃত্বে দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাই আপাতত কোচ বদলের প্রশ্নই উঠছে না। বরং আগামী ইউরোকে সামনে রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চালিয়ে যেতে চায় ইংল্যান্ড।
ম্যাচের পর ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) প্রধান কর্তা মার্ক বুলিংহ্যাম টমাস টুখেলের চুক্তি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি। তবে জানা গিয়েছে, প্রধান কোচের উপর তাঁর এবং এফএ-র পূর্ণ আস্থা এখনও অটুট।
বুলিংহ্যাম বলেন, ‘এতটা কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত না পারাটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আজ ফুটবলাররা এবং থমাস নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই দল, কোচিং স্টাফ এবং সাপোর্ট স্টাফ অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আমি ওদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত আমাদের অসাধারণ সমর্থক এবং দেশে যারা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই’।
Leave a Comment