---Advertisement---

অরুণাচলের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আসাম, বন্যায় মৃত বেড়ে ৪, দুর্ভোগে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ 

By Suman Debnath

July 15, 2026 7:45 PM

অরুণাচলের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আসাম, বন্যায় মৃত বেড়ে ৪, দুর্ভোগে ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ 

---Advertisement---


একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে আসামে ফের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশে লাগাতার বৃষ্টির ফলে সেখান থেকে নেমে আসা জলের তোড়ে আসামের নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। ফলে প্লাবিত হয়েছে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে জোরকদমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে।

আসাম স্টেট ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ডিআরআইএমএস এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬টি জেলা লখিমপুর, শোণিতপুর, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, যোরহাট এবং শিবসাগর বন্যার কবলে। মোট ১২টি রাজস্ব সার্কেল এবং ৯৯টি গ্রাম জলমগ্ন। সব মিলিয়ে ৩৭ হাজার ৩২ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি লখিমপুর জেলায়। সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার ৬৯৬ জন বাসিন্দা বন্যার জেরে সমস্যার সম্মুখীন। শোণিতপুরেও এক হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ধেমাজি, ডিব্রুগড়, যোরহাট এবং শিবসাগরের বহু নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত।

আরও পড়ুন:  'রাষ্ট্রপতিকে পলিটিক্স বেচতে পাঠিয়েছে BJP, ট্র্যাপড উনি', মুর্মুকে পালটা মমতার!

বন্যার জেরে কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১,১০৩ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। এর পাশাপাশি ১৬ হাজারেরও বেশি গবাদি পশুও ক্ষতিগ্রস্ত এবং অন্তত ২টি পশু জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সেই সঙ্গে অন্তত ৭২টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার জেরে একাধিক রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোণিতপুর জেলার চারিডুয়ার এলাকায় জিয়াভরালি নদীর প্রবল স্রোতে চারটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। অন্যদিকে, এনএইচপিসির বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার পর সুবনশিরি নদীর জলস্তর আরও বেড়ে যায়। ফলে মাজুলি-লখিমপুর সীমান্তের ২০টিরও বেশি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি নির্মীয়মাণ চেলেক-ধুনাগুড়ি সড়কের একাধিক অংশ ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

চিরাং জেলার নাঙ্গলভাঙা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া এবং অনেকের বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে ২০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার মানুষ সেখান থেকে ত্রাণ পাচ্ছেন। শোণিতপুরে এসডিআরএফ নৌকার সাহায্যে অন্তত ১৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে। শিবসাগরে জল জমে থাকা এলাকায় কাঁচা নালা কাটা এবং হিউম পাইপ বসিয়ে দ্রুত জল নামানোর কাজও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:  নয়ডার বহুতলে আগুন, ২ জনের মৃত্যু

প্রশাসনের দাবি, আপাতত কোনও নদী বিপদসীমার উপরে বইছে না। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, এসডিআরএফ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরও উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি এলাকায় আগামী দিনগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে আসামে বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা নেই।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment