---Advertisement---

২১ জুলাই সমাবেশের অনুমতি হাইকোর্টের, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে করার নির্দেশ

By Suman Debnath

July 15, 2026 5:45 PM

২১ জুলাই সমাবেশের অনুমতি হাইকোর্টের, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে করার নির্দেশ

---Advertisement---


২১ জুলাই কর্মসূচি নিয়ে ‘কালীঘাট’ তৃণমূলকে নির্দিষ্ট স্থান বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে এক দিকের রাস্তা ব্যবহার করে কর্মসূচি করা যাবে। অন্য দিকের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল চালু রাখতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে। আড়াই হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না।

শুনানির সময় রাজ্যের তরফে জানানো হয়, বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ৫০০ জনের বেশি জমায়েত হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ওই এলাকায় স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতাল রয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, প্রায় ২ হাজার মানুষের জমায়েত হলে সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যার উপযুক্ত স্থান হতে পারে। ১০ হাজারের বেশি লোক হলে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মসূচি করা যেতে পারে।

এর পাল্টা কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রতি বছর ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবসের কর্মসূচি হয়ে থাকে। সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে তাঁরা কর্মসূচি করতে চান না। প্রয়োজনে নবান্নের সামনেও কর্মসূচি করতে তাঁদের আপত্তি নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার আসলে এই কর্মসূচির অনুমতি দিতে চাইছে না।

জবাবে রাজ্যে তরফে বলা হয়, আগে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কর্মসূচি হলেও সেটি সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম তুলনামূলকভাবে অন্য জায়গা। তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, তাঁদের কর্মসূচিতে ২০ হাজার পর্যন্ত মানুষের জমায়েত হতে পারে। এর উত্তরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, যদি এত মানুষের সমাবেশের সম্ভাবনা থাকে, তা হলে ব্রিগেডেই কর্মসূচি করা উচিত।

আরও পড়ুন:  সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশের মনোনয়ন পেশ, সঙ্গে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী-বিজেপির রাজ্য সভাপতি

এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ব্রিগেডে সাধারণত এক লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠী কর্মসূচি করছে আর শহিদ মিনারে কংগ্রেসের সভা হচ্ছে। সেখানে লোকসংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাহলে তাঁদের ক্ষেত্রেই কেন বেঁধে দেওয়া হচ্ছে?

রাজ্যের তরফে এর জবাবে বলা হয়, কংগ্রেস ১০ হাজার মানুষের অনুমতি চেয়েছে এবং গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচির জন্য তৃণমূলের অন্য অংশকে ৭০০ থেকে ৮০০ জনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা যুক্তি দেন, গান্ধী মূর্তির পাদদেশের আশপাশে পার্ক স্ট্রিট-সহ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে। সেখানে ২০০ জনের বেশি জমায়েতের অনুমতি দেওয়াই উচিত নয়।

এরপর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, কালীঘাট তৃণমূল কি নিশ্চিত যে তাদের কর্মসূচিতে ১০ হাজার উপস্থিত হবে, না কি এটি শুধুই অনুমান? বিচারপতি বলেন, যদি ২ হাজার মানুষের জমায়েত হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। যদিও রাজ্য জানায়, ওই স্থানে ৩ হাজার মানুষের জমায়েতও সমস্যা সৃষ্টি করবে। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত আড়াই হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি দেয়।

আরও পড়ুন:  একুশে জুলাই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দুয়ারে কালীঘাট তৃণমূল, সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা

রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচি হয়ে আসছে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অন্য রকম। একই দিনে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠী, কংগ্রেস এবং কালীঘাট তৃণমূল- এই তিনটি আলাদা কর্মসূচি থাকায় প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে কালীঘাট তৃণমূলকে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। এই স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব থাকবে অন্যদিকের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করা। উল্লেখ্য, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন মামলাটি দায়ের করেছিলেন। ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি অনুমতি চেয়ে গত ২২ জুন পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment