পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে তলব করল ইডি। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নথিপত্র নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ইডি দপ্তরে তাঁদের হাজির দিতে নোটিসে বলা হয়েছে। ইডির নোটিস মেলার পরই মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্র হাজির হন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক তথা ঋতব্রত শিবিরের অপর সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের মধ্যে। সূত্রের খবর, রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্তই মদন মিত্র সেখানেই ছিলেন। তবে দু’পক্ষের মধ্যে কী কথা হয়েছে সেটা কেউ খোলসা করেননি।
এদিকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রীতিমতো দুটি গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছে। মদন মিত্র কালীঘাট তৃণমূলে থাকলেও সন্দীপন সাহা-সহ বেশিরভাগ বিধায়ক ঋতব্রত শিবিরে ভিড়ে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠবৃত্ত হিসেবে যাঁদের নাম উচ্চারিত হয়, তাঁদের বেশিরভাগই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দিদির পাশে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র কি এবার যোগ দিতে চলেছেন ঋত-শিবিরে? উঠছে প্রশ্ন। কারণ সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে মদন মিত্রের গোপন বৈঠক এমনই গুঞ্জন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে গত জুন মাসে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের ভবানীপুরের বাড়ি এবং কামারহাটি, জোকা–র ফ্ল্যাট–সহ মোট আটটি ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ওই সব ঠিকানা থেকে ডিজিটাল ডকুমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেন অফিসাররা। উদ্ধার করা নথি থেকে আর্থিক লেনদেনের যে প্রমাণ মিলেছে তাতে ওই তিনজনের যোগ আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর। দীর্ঘদিন যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগ্রামের সাক্ষী ছিলেন সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলরা তাঁর হাত ছেড়েছেন। কিন্তু মদন বহাল ছিলেন। এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যে গুটি কয়েক বিধায়ক আছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মদন মিত্র।
তাছাড়া ইডি নোটিসের পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে হাজির হন মদন। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই শিবির বদলের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ইডির দাবি, পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কামারহাটিতে যে অনিয়ম হয়েছিল সেটাতে মদন মিত্রের যোগ রয়েছে। যদিও মদন তা অস্বীকার করেছেন। আর সন্দীপন সাহা এই বিষয়ে বলেন, ‘আমার বাবার সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে। বাড়িতে এসেছিলেন। তখন আমি ছিলাম না। উনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলতে চেয়েছেন। উনি এলে কথা হলে তারপর বলতে পারব বিষয়টি কী।’
Leave a Comment