গ্রেপ্তার হলেন নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে বিজেপি কর্মীদের মারধর-বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল অশোকের। আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাঁর ছেলেও। বুধবার সকালে অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নৈহাটির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে নৈহাটি থানার পুলিশ। রাজ্য পালাবদলের পর থেকে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। হুমকি, ভোট পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওইসব নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এবার তা থেকে বাদ গেলেন না নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানও।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিজিতের বিরুদ্ধে মহিলাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপরে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর এবং দাদাগিরির মতো একাধিক অভিযোগ ছিল। তবে অশোক চট্টোপাধ্যায় পুরপ্রধান থাকাকালীন সেইসব অভিযোগগুলির বিরুদ্ধে হাতে-গরম প্রমাণ পেলেও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা করেছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৃণমূল পরিচালিত নৈহাটি পুরসভার পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্য কাউন্সিলররা। তার জেরে থমকে গিয়েছিল পরিষেবা। শিকেয় উঠেছিল পুরসভার যাবতীয় কাজকর্ম।
অন্যদিকে এই আবহে কদিন আগে অর্থাৎ মে মাসে হঠাৎ একদিন অশোক চট্টোপাধ্যায় হাজির হন পুরসভায়। সেথানে তাঁকে চরম হেনস্থা হতে হয়। এই বিষয়ে অশোকবাবুর অভিযোগ করেন, একদল বিজেপি কর্মী পুরসভায় হাজির হয়ে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। প্রবীণ অশোক চট্টোপাধ্যায়কে রীতিমতো পুরসভা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। এমনকী পুরসভা এবং তার সংলগ্ন মাতৃসদনের মধ্যে ঢুকে পুরসভার কয়েকজন কর্মচারীকেও মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর তিনি বলেছিলেন, ‘বিধায়ক বলেছেন বলে আমি এসেছি। এই কথা শুনেই কয়েকজন আমার দিকে তেড়ে আসেন। রীতিমতো ধাক্কা দিয়ে আমাকে পুরসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
তাছাড়া বুধবার গ্রেপ্তারের পর অশোক চট্টোপাধ্যায়কে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের পরে অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘১১ বছর মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। কোথাও বোধহয় অন্যায় হয়েছে, ভুল হয়েছে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড়মার মন্দিরের আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বড়মা মন্দির কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, মন্দিরে অশোক চট্টোপাধ্যায়ের প্রভাব খাটানো হতো।
Leave a Comment