রথযাত্রার আগের দিন ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হলো দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার। স্ননযাত্রার পর অনবাসর পর্ব চলায় টানা ১৫ দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শন বন্ধ ছিল। বুধবার ভোর ৬টায় গর্ভগৃহের বেদির দ্বার খুলে দেওয়া হয়।
হাজার হাজার ভক্ত প্রভুর দর্শনে মন্দিরে ভিড় জমান। বৃহস্পতিবার রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দিঘায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুমান, এ দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে। সেই কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটি রথের প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রথা অনুযায়ী, রথযাত্রার আগে জগন্নাথের স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনবাসর পর্বে টানা ১৫ দিন ভক্তদের দর্শন দেন না মহাপ্রভু। সেই পর্ব শেষ হওয়ায় বুধবার থেকে আবারও দর্শনের সুযোগ পেলেন ভক্তরা। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
দিঘার মন্দিরের ট্রাস্টি ও প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস বলেন, ‘অনবাসরের ১৫ দিন শেষে জগন্নাথ, বলরাম ও দেবী সুভদ্রার পুনরায় দর্শন লাভ ভক্তদের কাছে এক অপার আনন্দ ও আবেগের মুহূর্ত। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে দিঘার এই ঐতিহাসিক রথযাত্রার অংশগ্রহের আন্তরিক আহ্বান জানাই।‘
উল্লেখ্য, গত বছর দিঘার মন্দিরে প্রথম রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এবারের রথযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী। তিনি রথের রশিতে টানও দেবেন। ইতিমধ্যই মন্দির কমিটির তরফে রথযাত্রার পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ও সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হবে। এরপর জগন্নাথ,বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ মন্দির থেকে তিনটি পৃথক রথে আনা হবে। দুপুর ১টা থেকে আড়াইটে পর্যন্ত রথ সাজানোর কাজ চলবে। রথে অধিষ্ঠিত অবস্থায় বিগ্রহদের ভোট নিবেদন করা হবে। দুপুর ৩টে থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। বিকেল সাড়ে ৩টেয় শিশির অধিকারী রথের রশিতে টান দিয়ে রথযাত্রার সূচনা করবেন। বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে তিনটি রথ মাসির বাড়ি গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছে যাবে।
Leave a Comment