স্পেনের কাছে জোড়া গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ফ্রান্স বিদায় নেওয়ার পরেও বিতর্ক থামল না। এবার রেফারিং নিয়েই প্রশ্ন তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ। যদিও তিনি স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন, তবু ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টনের মান নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।
ম্যাচের পরে সাংবাদিক বৈঠকে দেশঁ বলেন, ‘আমার ফুটবলাররা ভেঙে পড়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই সবাই খুব হতাশ।’ তবে হতাশার মধ্যেও তিনি স্পেনের কৃতিত্ব অস্বীকার করেননি। দেশঁর কথায়, ‘আমরা দ্বিতীয় সেরা দল ছিলাম। স্পেন আমাদের থেকে ভালো খেলেছে। ওরা মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে, আমাদের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা টেকনিকে ও শারীরিক দিক থেকেও অনেক ভুল করেছি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারিনি।’
সেমিফাইনালে ওঠার পথে ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ও সাবলীল ফুটবল সারা বিশ্বকাপে নজর কেড়েছিল। ছ’টি ম্যাচে ১৬টি গোল করে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলগুলির সঙ্গে তুলনাও হয় তাদের। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্যের সামনে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায় ফরাসিদের। টুর্নামেন্টের পরই যিনি কোচের পদ ছাড়বেন, সেই দিদিয়ে দেশঁও ম্যাচের পর কার্যত তেমন কোনও ব্যাখ্যাই খুঁজে পাননি।
মঙ্গলবার ডালাসে কার্যত ফ্রান্সের শ্বাসরোধ করে দেয় স্পেন। দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও পেদ্রো পোরোর গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতে ২০১০-এর পর এই প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই স্পেন এমনভাবে ফ্রান্সকে চেপে ধরে, যেন একটি অজগর ধীরে ধীরে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরেছে। একের পর এক তীব্র প্রেসিং, বলের দখলে ধারাবাহিক আধিপত্য এবং একের পর এক আক্রমণে তারা ফরাসিদের নিঃশ্বাস নেওয়ারও সুযোগ দেয়নি বলা যায়। গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে এ দিন সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ করে দেয় স্পেন।
এই বিস্ময়কর হারের পরেই আসে বিতর্কিত মন্তব্য। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি আক্রমণ না করলেও দেশঁ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই রেফারির দায়িত্ব পাওয়া উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
ফরাসি কোচ বলেন, ‘আমি খারাপ হারের অজুহাত দিতে চাই না। সেই ফাঁদেও পা দিতে চাই না। কিন্তু এই সেমিফাইনাল পরিচালনা করার মতো মানের রেফারি কি উনি ছিলেন? সেই প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।’
বিশেষ করে প্রথমার্ধে লামিনে ইয়ামালকে ফাউলের পর স্পেন যে পেনাল্টি পায়, সেটি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও দেশঁ স্পষ্ট করে বলেননি যে শুধুমাত্র ওই সিদ্ধান্তের জন্যই ফ্রান্স হেরেছে। তিনি অবশ্য স্পেনের প্রশংসাই করেন। বলেন, ‘স্পেন ফাইনালে ওঠার যোগ্য দল। আমাদের থেকে ওরাই ভালো খেলেছে।’
এই হারের ফলে টানা তৃতীয় বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফ্রান্সের। এখন তাদের খেলতে হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ। অন্য দিকে, স্পেন অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালের বিজয়ীর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার জন্য।
Leave a Comment