কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকা ও তরুণীদের শহরে এনে জোর করে যৌন ব্যবসায় নামানোর অভিযোগে ফের চাঞ্চল্য কলকাতায়। দক্ষিণ কলকাতার কসবার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে এক ১৫ বছরের নাবালিকা-সহ তিন মহিলাকে উদ্ধার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার, রিসেপশনিস্ট এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন হোটেলের ম্যানেজার আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়, রিসেপশনিস্ট আনমোল ঠাকুর এবং অভিযুক্ত মানবপাচারকারী মহম্মদ আসিফ ও মুসকান পারভিন। ধৃতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও দেহব্যবসা পরিচালনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও)-র কাছ থেকে গোয়েন্দা বিভাগের কাছে গোপন তথ্য পৌঁছয় যে, কসবার ওই হোটেলের কয়েকটি ঘরে নিয়মিত বেআইনি দেহব্যবসা চলছে। অভিযোগ ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খদ্দের জোগাড় করা হত। পাশাপাশি শহরতলি ও বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণী ও নাবালিকাদের কলকাতায় এনে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় নামানো হচ্ছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালান। হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে এক ১৫ বছরের নাবালিকা এবং দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এটি একটি বৃহত্তর মানবপাচার চক্রের অংশ হতে পারে এবং এর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে।
কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন হোটেল, স্পা কিংবা অন্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে বেআইনি দেহব্যবসা বা মানবপাচারের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও একাধিক অভিযানে নাবালিকা ও মহিলাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। কসবার এই ঘটনাও সেই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তদন্ত এগোলে এই চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
Leave a Comment